মহারাষ্ট্র পুরসভা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৬৮ মহাজুটি প্রার্থীর জয়, নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ এমএনএস
মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর জয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চাইল রাজ ঠাকরে নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। থানে পুরসভা সহ রাজ্যের একাধিক পুরনিগমে বিনা লড়াইয়ে জয়ী প্রার্থীদের ফলাফল স্থগিত রাখার দাবিতে সোমবার মহারাষ্ট্র রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (এসইসি) কাছে লিখিত আবেদন জমা দেয় দলটি।
এমএনএস এর থানে ও পালঘর জেলা সভাপতি অবিনাশ যাদবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। যাদবের দাবি, থানে পুরসভা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টির তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে এমএনএস।

দলের অভিযোগ, বিরোধী দলের বহু প্রার্থীকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। আবার কোথাও সরকারি যন্ত্রণা অপব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর ফলেই শাসক জোট মহাজুটির প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন, যা গণতন্ত্রের পক্ষে মারাত্মক আঘাত বলে দাবি এমএনএস এর।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের সব পুরনিগমে ভোটগ্রহণ হবে ১৫ জানুয়ারি ও গণনা ১৬ জানুয়ারি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২ জানুয়ারি। ওই সময়সীমা পেরোনোর পরই বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা ও অজিত পাওয়ারের এনসিপি নিয়ে গঠিত মহাযুতির মোট ৬৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বিজেপির ৪৪ জন, শিবসেনার ২২ জন ও এনসিপির ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। অভিযোগ ওঠার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন একটি প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দেয়।
এর আগেও উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) একই ধরনের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, আসন্ন বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি) নির্বাচনে শিবসেনা ইউবিটি ও এমএনএস জোটবদ্ধ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শিবসেনা ইউবিটি নেতা সঞ্জয় রাউত সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়ন গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, "নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত এক পরিচিত ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন, ৩ টার পর ফর্ম গ্রহণ করা ঠিক নয় বলেও তাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বিধায়কের কথা শুনতে এক অভিভাবক মন্ত্রী এমন সুরে কথা বলেন, যা অনুরোধের পাশাপাশি হুমকির মতো শোনায়।"
পুরসভা ভোটকে ঘিরে এই বিতর্কে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে মহারাষ্ট্র।












Click it and Unblock the Notifications