মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চবনের বিজেপিতে যোগদান! রাজ্যসভার ভোটের আগে উদ্বেগে কংগ্রেস

সোমবার কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ইতি ঘোষণা করেছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চবম। তখনই জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। ঠিক পরেরদিনই তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেন। তাঁর এই দলবদলে মহারাষ্ট্রে রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অশোক চবন এদিন বলেছেন, তাঁর নতুন রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা সনিয়া গান্ধী কিংবা রাহুল গান্ধী তাঁকে ফোন করেছেন কিনা, তা জানতে চাইলে উত্তর এড়িয়ে যান অশোক চবন। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে অশোক চবনকে দলে স্বাগত জানাচ্ছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।

অশোক চবন

বিজেপিতে যোগদানের পরে অশোক চবন বলেছেন, তিনি যখন কংগ্রেসে ছিলেন, তখন তাদের সঙ্গে আন্তরিক ছিলেন। এখন তিনি নিশ্চিত করবেন লোকসভা বা রাজ্যসভা সেখানেই নির্বাচন হোক, যেন বিজেপি জয়ী হয়। এছাড়াও তিনি বলেছেন, এত বছর যে দলে ছিলেন, সেখানকার কারও বিরুদ্ধে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।

উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ফড়নবিশ সবসময় তাঁর এলাকা কিংবা নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে সহায়ক হয়েছেন। চবন বলেছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করা মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি নয়। তারা সমসময় রাজ্যের উন্নতির জন্য একত্রিত হয়েছেন।

বিজেপিতে যোগদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে চবন বলেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কেউ তাঁকে বিজেপিতে যোগ দিতে বলেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাক্তন সহকর্মীদের সঙ্গে ছিলেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বের কারণে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আদর্শ হাউজিং কেলেঙ্কারি মামলা নিয়ে চবন বলেছেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতে রয়েছে। আইন আইনের পথে চলবে। বিষয়টিতে নিজের রাজনৈতিক দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

এদিকে, রাজ্যসভা নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে অশোক চবনের দলত্যাগে কংগ্রেসের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। উল্লেখ্য মহারাষ্ট্রে রাজ্যসভার ১৯ টি আসনের মধ্যে ছটি খালি হচ্ছে এপ্রিলে। এই ছটির মধ্যে একটি মাত্র কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। তিনটি রয়েছে বিজেপির দখলে. একটি শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর হাতে এবং আরেকটি রয়েছে শরদ পাওয়ারের এনসিপির হাতে।

এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রে রাজ্যসভায় একজনকে নির্বাচিত করতে ৪১ জন বিধায়কের প্রয়োজন। সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস তাদের আসনটি হারাতে পারে বলেই মনে করছেন সেখানকার রানৈতিক মহলের একাংশ। চবন পদত্যাগের আগে ৪৪ জন বিধায়ক ছিল। এছাড়া প্রাক্তন মন্ত্রী সুনীল কেদার দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ডিসেম্বরে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এখন কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৪২।

এরপর মুম্বইয়ের মান্দ্রা পূর্বের বিধায়ক জিসান সিদ্দিক যদি অজিত পাওয়ারের এনসিপিতে যোগ দেন, তাহলে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৪১-এ নেমে যাবে। সেখানে রাজ্যসভায় নির্বাচনের দিন কতজন বিধায়ক কংগ্রেসে থাকেন, কংগ্রেসের জয় তার ওপরেই নির্ভর করছে। অশোক চবন আগে দাবি করেছিলেন অন্তত পাঁচজন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেবেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+