ন্যায্য মূল্য চাই! ছয়দিন পথে থাকার পরেও প্রতিবাদে অনড় কৃষকরা
দিন ছয়েক আগে ন্যায্য মূল্যের দাবিতে পথে নেমেছে হাজার হাজার কৃষক! এখনও জারি প্রতিবাদ। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলাতে ধিনদরি থেকে কর্মসূচি শুরু করে কৃষকরা। তাঁদের লক্ষ ছিল মুম্বই পৌঁছানো। মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের কৃষকরাই এই বিক্ষোভে শামিল হন। আর সেই সমস্ত কৃষকদের বাড়ি থেকে মুম্বইয়ের দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিমি। টানা ছয়দিন ধরে তাঁদের সেই পথ চলায় বার কয়েক দেখা হয়েছে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে।

কৃষকদের এই বিক্ষোভ জারি থাকবে
কুইন্টাল প্রতি পেঁয়াজ চাষে ভর্তুকি বাড়াতে রাজিও হয়েছে সরকার। আর এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে সরকার একটি বিশেষ কমিটিও তৈরি করেছে। এরপরেও বিক্ষোভ বন্ধ করতে রাজি নয় কৃষকরা। আপাতত তাঁরা থানে জেলার সাহাপুর তালুকা নামে একটি শহরে থাকার ব্যবস্থা করেছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কৃষকদের এই বিক্ষোভ জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। অল ইন্ডিয়া কিষান সভা এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

মিছিলে প্রাক্তন বিধায়ক সহ একাধিক নেতা
কৃষকদের মিছিলে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক সহ একাধিক নেতা। ঠিক এভাবেই ২০১৮ সালে ধিনদরি জেলা থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে কৃষকরা। সেবারও এভাবে হেঁটে মুম্বই পৌঁছলেও তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। আর তাই এবার কোনও ভাবেই নিজেদের অবস্থায় থেকে সরছেন না আদিবাসী কৃষকরা।

ভর্তুকি আরও বাড়ানো হবে
বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতিনিধিদের। বৈঠকের পর সরকার ঠিক করেছে পেঁয়াজ চাষিদের ভর্তুকি বাড়াবে সরকার। কৃষকদের দাবি কুইন্টাল প্রতি ৬০০ টাকা ভর্তুকি তাঁদের দিতে হবে। এর আগে সেই ভর্তুকি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবারের পর সেই ভর্তুকি আরও বাড়ানো হবে বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

১৭ দফা দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ
মোট ১৭ দফা দাবিতে কৃষকরা এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিও। কৃষকদের দাবি, কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সরকারকে ক্ষতিপুরণ দিতে হবে। অন্যদিকে ঋণ মুকুবের স্কিমে যারা আবেদন করতে পারেননি সেরকম ৮৮ হাজার কৃষকের ঋণ মুকুবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০১৮ সালেই এই স্কিমের কথা ঘষনা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। জানা যাচ্ছে, কৃষকদের সমস্ত দাবি নিয়েই ইতিমধ্যে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে শিন্ডে সরকার।












Click it and Unblock the Notifications