তৃতীয়বার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী, যে ৫ পয়েন্ট ফড়নবীশকে এগিয়ে রাখলো সকলের থেকে
জোটের জট কাটলো নাকি আরও পাকলো? অন্তত এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরে-ফিরে আসছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আঙিনায়। কেননা অসুস্থ হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে শিঁকে ছিড়লো না একনাথ শিন্ডের। প্রধানমন্ত্রীর ভরসা থাকলো দেবেন্দ্র ফড়নবীশের ওপরই।
ভারতীয় জনতা পার্টির সিনিয়র নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবীশ আগামী বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন৷ বুধবার দেবেন্দ্র ফড়নবিস সর্বসম্মতিক্রমে মহারাষ্ট্র বিজেপির বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে৷ তৃতীয় বার সেই মুখ্যমন্ত্রীর পদেই বসতে চলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ মুম্বাইয়ের বিস্তীর্ণ আজাদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ । একই সাথে যা জানা যাচ্ছে, শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডে এবং এনসিপির অজিত পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতেই দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সাংবাদিক বৈঠক করেন। বলেন তাঁর এখন একটাই এজেন্ডা, মুম্বইবাসীর সমস্যা দূর করা।
এক্ষেত্রে একটা বিষয় প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, প্রধানমন্ত্রী বারবার কেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশের ওপরই ভরসা রাখছেন? সেক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো এই ৫টি পয়েন্টের জন্যেই প্রধানমন্ত্রীর নজরে 'গুড বয়' ফড়নবীশ । এই ৫ টি বিষয়ই নাগপুরের ২২ বছর বয়সী কর্পোরেটর ছেলেকে রাজনীতিতে এনে দিয়েছিল। এবার জেনে নিন কোন সেই ৫টি বিষয় -
১ একজন আইনজীবী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ RSS সদস্য হিসাবে প্রশিক্ষিত, দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মহারাষ্ট্রে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন মাত্র ২২ বছর বয়সে। তিনি তার বুদ্ধিমত্তা এবং তীক্ষ্ণ বিতর্ক দক্ষতার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাই নাগপুর দক্ষিণ পশ্চিম কেন্দ্র থেকে টানা ৬ বার জয়ী হয়েছেন।
২ দেবেন্দ্র ফড়নবীশ ইন্দিরা কনভেন্ট চালিয়ে যেতে অস্বীকার করেছিলেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর জন্যেই একটি স্কুল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যিনি তার বাবাকে বন্দী করেছিলেন। একই সাথে তাঁর সময় কালের মধ্যেই সরস্বতী বিদ্যালয় স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
৩ মাত্র ২৭ বছর বয়সে, দেবেন্দ্র ফড়নবিস নাগপুরের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হয়েছিলেন এবং পরে, মহারাষ্ট্রের দ্বিতীয় ব্রাহ্মণ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
৪ ফড়নবীশের নেতৃত্বের সহজলভ্য শৈলী তাকে ব্যাপক সম্মান প্রদান করেছিল। ২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর প্রথম কার্যকাল মারাঠা রিজার্ভেশন ইস্যু, মুম্বাই-নাগপুর সমৃদ্ধি মহামার্গের মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প চালু করা এবং পুলিশ সংস্কার শুরু করার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করেছিলেন সহজেই।
৫ ফড়নবীশ সেচ কেলেঙ্কারি ফাঁস করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে তা প্রতিষ্ঠাও করেছেন। তার নেতৃত্বে, মহারাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামো বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে যা সহজেই প্রধানমন্ত্রীর মন জয় করেছে।
আর এই সব বিষয়গুলির জন্যেই দেবেন্দ্র ফড়নবীশ তৃতীয় বারের জন্যে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মহারাষ্ট্রের।












Click it and Unblock the Notifications