Maharashtra: এনসিপিতে বিদ্রোহ! ডিগবাজি খেয়ে ৪ বছরে ৩ বার উপমুখ্যমন্ত্রী পদে অজিত
এনসিপি ছেড়েই মহারাষ্ট্রের শিন্ডে সরকারের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হলেন অজিত পাওয়ার। কাকা শরদ পাওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আবারও তিনি বিজেপি-জোটে শামিল হলেন। চার বছরের মধ্যে তিনবার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন অজিত।
২০১৯-এ মহারাষ্ট্র্র বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই অজিত পাওয়ার বিভিন্ন ডাল ধরে পক্ষ বদল করে চলেছেন। একবার তিনি বিজেপির জোটসঙ্গী হয়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শামিল হলেন। পরক্ষণেই ভোলবদলে তিনি ফিরে এলেন কংগ্রেস-এনসিপি-শিবসেনার মহাজোটে।

এবার মহারাষ্ট্র সরকারের বর্তমান মেয়াদের চারবছরের মাথায় তিনি আবারও শিবির বদল করলেন। এবারও তিনি বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গী হলেন। তবে এবার সরকার বিজেপি-শিন্ডেগোষ্ঠী শিবসেনার। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলেন অজিত পাওয়ার।
এনসিপির নেতা অজিত পাওয়ারের সঙ্গে দলের ৯ নেতা এদিন মহারাষ্ট্র সরকারে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অজিত পাওয়ার শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ৫৩ জনের মধ্যে ৪৩ জন এনসিপি বিধায়ক। অর্থাৎ প্রায় পুরো এনসিপি পরিষদীয় টিম নিয়েই তিনি বিজেপি-জোট সরকারে যোগ দিয়েছেন।
মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ছিলেন অজিত পাওয়ার। কিছুদিন আগেই তিনি বিরোধী দলনেতা হিসাবে পদত্যাগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তারপর একেবারে বিজেপি-জোট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পরই তিনি সিদ্ধানত নিলেন বিরোধী-শিবির ছেড়ে শাসক শিবিরে যোগদানের।

অজিত পাওয়ার ২০১৯-এর পর নতুন মেয়াদে একাধিকবার ডিগবাজি খেয়েছেন। মহা-আগাড়ি সরকার গঠনের আগে তিনি বিজেপির সঙ্গে জোট করে সরকারে গিয়েছিলেন। অজিত পাওয়ারের সমর্থন নিয়ে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকার গড়েছিলেন। কিন্তু সেউ সরকার ভেঙে যায় অচিরেই।
ডিগবাজি খেয়ে অজিত পাওয়ার শামিল হন মহাআগাড়ি সরকারে। কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনা মহাজোট গড়ে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করে। সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন উদ্ধব ঠাকরে। আর অজিত পাওয়ার হন উপমুখ্যমন্ত্রী। এরপর শিবসেনায় বিদ্রোহের জেরে শিন্ডে-গোষ্ঠী বেরিয়ে যান।
মহারাষ্ট্রের বদলে যায় সমীকরণ। বিজেপির সঙ্গে জোট করে বিদ্রোহী শিন্ডে-শিবিরের নেতারা মহারাষ্ট্র নতুন সরকার গড়েন। সেখানে একনাথ শিন্ডে হন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। আর উপমুখ্যমন্ত্রী হন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। এবার সেই সরকারকেই সমর্থন করে শাসক শিবিরে যোগ দিলেন অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বে এনসিপি-র বিদ্রোহীরা।
এনসিপি বিধায়কদের একটি দল অজিত পাওয়ারের মুম্বইয়ের বাসভবনে বৈঠক করেছিল। সেখানে দলের কার্যকরী সভাপতি সুপ্রিয়া সুলে এবং সিনিয়র নেতা ছগান ভুজবলও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না দলের রাজ্য সভাপতি জয়ন্ত পাটিল। এদিকে শরদ পাওয়ার পুনেতে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, তিনি মুম্বইয়ে বৈঠকের বিষয়ে অবগত নন।

তারপরই অজিত পাওয়ার প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে সটান যোগ দেন বিজেপি শিবিরে। তিনি সোজা রাজভবনে গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অজিত পাওয়ারের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির বেশ কয়েকজন বিধায়কও। তবে কতজন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে গিয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। দাবি ৪৩ জন বিধায়ক অজিতের সঙ্গী হয়েছেন।
শরদ পাওয়ার পার্টি প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করার এক মাস পরে এনসিপিতে মন্থন শুরু হয় এবং তারপরে তিন দিন পরে এটি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কারণ তিনি "জনতার অনুভূতিকে অসম্মান করতে পারেননি"।
অজিত পাওয়ার, যিনি ২০১৯ সালে বিজেপির সাথে সারিবদ্ধ হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন এবং একটি সকালের অনুষ্ঠানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন, তিনি দলে তার ক্ষয়িষ্ণু মর্যাদা পুনরুত্থিত করার জন্য রাজ্য সভাপতির পদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
যদিও তাঁর কোনও দলীয় পদ নেই, মিসেস সুলে এবং দলের নেতা প্রফুল প্যাটেলকে ১০ জুন কার্যকরী সভাপতি পদে উন্নীত করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications