সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়াতে অভিনব কায়দায় পঠনপাঠন, নজির সৃষ্টি করেছে মহারাষ্ট্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়াতে অভিনব কায়দায় পঠনপাঠন, নজির সৃষ্টি করেছে মহারাষ্ট্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়
মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলার একটি গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের সামাজের প্রতি দায়বদ্ধতা শেখাতে অভিনব পদ্ধতিতে পড়ানো হয়। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি তারা পরিবেশের যত্ন নেয়, স্কুল পরিষ্কার করে। স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি তাদের পরিবেশের যত্ন নেওয়াও শেখানো হয়।

বাবুওয়াড়ি-চরথা গ্রামের জেলা পরিষদ পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক রয়েছে। গ্রামটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে একটি টিলার উপর অবস্থিত। স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। প্রতিদিন স্কুলের পড়ুয়া স্কুল পরিষ্কার করতে শিক্ষকদের সাহায্য করে। মাঝে মাঝে গাছের চারা রোপন করা হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি একাধিক সমাজিক কাজে স্কুলের শিক্ষকদের সাহায্য করে পড়ুয়ারা। এরফলে পড়াশোনায় ভীতি পড়ুয়াদের মধ্যে অনেকটাই চলে গিয়েছে। পড়়য়ারা স্কুলকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।
স্কুলের স্মাইল ব্যাজ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক সুধীর টুপে বলেন, করোনা মহামারী পড়ুয়াদের পড়াশোনার ধারা অনেকটা পরিবর্তন করেছে। শিশুরা যাতে বাড়িতে সঠিকভাবে পড়াশোনা করে, বাড়িতে স্কুলের দেওয়া পড়াগুলো তৈরি করে, তার জন্য স্মাইল ব্যাজ দেওয়া হয়েছে। যে শিশুরা বাড়িতে মন দিয়ে পড়াশোনা করে, তারা এই স্মাইল ব্যাজ পান।
প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুল প্রতিদিন সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়। তার আধঘণ্টা আগে শিশুরা উপস্থিত হয়। শিক্ষকদের সঙ্গে স্কুল প্রাঙ্গন ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। যাঁরা প্রতিদিন স্কুলের দেওয়া কাজ করে আনে, তারা স্মাইল ব্যাজটি স্কুলে পরে। গত চার পাঁচ বছর ধরে নো ব্যাগ ডে পালন করা নির্দিষ্ট দিনে। সেদিন স্কুলের পড়ুয়ারা ব্যাগ আনে না। সেদিন বাগান করা, গাছের যত্ন নেওয়া, স্কুলের কাজ করা সহ বিভিন্ন কাজ করা হয়। সেদিন পড়াশোনাও হয়। তবে সেটি প্রথাগত পড়াশোনার বাইরে। স্কুলের পড়ুয়াদের উৎসাহী করতে, উপস্থিতির হার বাড়ানোর জন্য নো ব্যাগ ডে চালু করা হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুধীর টুপে বলেন, স্কুলের চারপাশে সবুজ আচ্ছাদন রাখতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৬০টি গাছ লাগানো হয়েছে। পড়ুয়ারা তাদের পানীয় জলের খানিকটা বাঁচিয়ে রাখে। প্রতিদিন বাড়ি যাওয়ার আগে তারা গাছেদের দেয়।
স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলের ১৫ জন ছাত্র ২০১৭ সাল থেকে বৃত্তি পেয়েছে। জেলা পরিষদের শিক্ষা আধিকারিক জয়শ্রী চভান বলেছেন, স্কুলের তরফে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে, তা বেশ অভিনব। এরফলে পড়ুয়াদের পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতাও বেড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications