মহাকুম্ভে ভিড় উপচে পড়ছে ভক্তদের, তার জেরে বিমানের ভাড়া ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার, উদ্বেগ প্রকাশ DGCA-র
মহা কুম্ভ ২০২৫ উপলক্ষে প্রয়াগরাজ ভ্রমণে উৎসুক যাত্রীরা জোর ধাক্কা খাচ্ছেন আকাশপথে ভ্রমণে। অন্য দেশ থেকে কিংবা অন্য রাজ্য থেকে আগত ভক্তরা বিমানে প্রয়াগরাজ আসতে চাইলে প্রথমেই যেখানে ধাক্কা খাচ্ছেন তা হল বিমানের টিকিট মূল্যে। বিমান ভাড়া মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যা দেখা যাচ্ছে, ২৮ জানুয়ারি চেন্নাই থেকে প্রয়াগরাজ যাওয়া এবং ৩০ জানুয়ারি আবার ফিরে আসার টিকিটের দাম ৫৩,০০০ টাকার উপরে। কলকাতা থেকে টিকিটের মূল্য ৩৫,৫০০ টাকা, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ এবং দিল্লি থেকে ৪৭,৫০০ টাকার উপরে এবং বেঙ্গালুরু থেকে ভাড়া ৫১,০০০ টাকার বেশি। বসন্ত পঞ্চমী (৩ ফেব্রুয়ারি), মাঘী পূর্ণিমা (১২ ফেব্রুয়ারি) এবং মহা শিবরাত্রি (২৬ ফেব্রুয়ারি)-এর মতো বিশেষ স্নানের তারিখগুলিতে টিকিটের মূল্য আরও বেশি।

সেই বাড়তি ভাড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ এয়ারলাইনগুলোকে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং বিমানের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ২৩ জানুয়ারি ডিজিসিএ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উপর জোর দেয়। ইতিমধ্যে জানুয়ারি মাসে প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত ৮১টি ফ্লাইট অনুমোদন করা হয়েছে। যার ফলে প্রয়াগরাজে বিমানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩২টি।
মহাকুম্ভ ২০২৫ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া-র ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিল কালসি জানান, "শুধু ভারত নয়, প্রবাসী ভারতীয় এবং বিদেশিদের মধ্যেও মহা কুম্ভের জন্য বিশেষ উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে"। ভিসা প্রসেসিং প্ল্যাটফর্ম Atlys জানিয়েছে যে, মহাকুম্ভের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে আধ্যাত্মিক ভ্রমণের পরিমাণ ২১.৪% বৃদ্ধি পেয়ছে। যার বেশিরভাগ আবেদন যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে।
১০৬ বছরে প্রথমবারের মতো প্রয়াগরাজ বিমানবন্দরে রাতে বিমান অবতরণ করছে এবং ৯৩ বছরে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠা নামা করছে প্রয়াগরাজ বিমানবন্দরে। বর্তমানে বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৪৬টি বিমান ওঠানামা করছে এবং ১৫টি প্রয়াগরাজের সাথে যুক্ত।
১৩ জানুয়ারি মহাকুম্ভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ কোটিরও বেশি ভক্ত গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর সঙ্গমে পবিত্র স্নান সেরেছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মহাকুম্ভকে "বিশ্বের বৃহত্তম আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান" বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটি সনাতন ধর্মের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর তা যে সত্যিই প্রমাণিত তার প্রমাণ মিলেছে প্রয়াগরাজের এই বিরাট সংখ্যক বিমানের সংখ্যা থেকেই।












Click it and Unblock the Notifications