হেঁসেল প্রিয় চা, নেসক্যাফে ও ম্যাগির দাম বাড়ল, চিন্তার ভাঁজ মধ্যবিত্তের কপালে
সম্প্রতি দেশজুড়ে একাধিক ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে চলেছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে চা, কফি ও নুডলসেরও। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড (হুল) এবং নেসলে ঘোষণা করেছে যে তাদের চা, কফি, দুধ ও নুডলসের মতো পণ্যগুলির দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মাথায় ফের চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

হুল কফিরও দাম বাড়িয়েছে
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, হুল ইতিমধ্যেই ব্রু কফি পাউডারের দাম ৩ থেকে ৭ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে ১৪ মার্চ। ব্রু গোল্ড কফি জারের মূল্য ৩-৪ শতাংশ বাড়িতে তা আরও মূল্যবান করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্রু ইনস্ট্যান্ট কফির দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৬.৬৬ শতাংশ। একইভাবে, তাজমহল চায়ের দাম ৩.৭ থেকে ৫.৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ব্রুক বন্ড চায়ের দামও ১.৫ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে হুল জানিয়েছে যে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে তাদের পণ্যগুলির দামও বাড়াতে হয়েছে।

দাম বাড়ল ম্যাগিরও
এর পাশাপাশি, নেসলে ইন্ডিয়া তাদের পণ্যের দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে। ৭০ গ্রাম ম্যাগি মসালা নুডলসের দাম ১২ টাকা থেকে নেড়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। ১৪০ গ্রাম ম্যাগি মসালা নুডলসের দাম তিন টাকা বা ১২.৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সেখানে ৫৬০ গ্রাম ম্যাগি মসালা নুডলসের দাম ৯৬ টাকা থেকে বেড়ে ১০৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ম্যাগি নুডলসের দাম ৯ থেকে ১৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে দুধ ও কফি পাউডারের দামও বাড়িয়েছে নেসলে।

নেসলে দুধ ও কফির দাম বৃদ্ধি
নেসলে ১ লিটার দুধের প্যাকেটের দাম ৪ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং এর জন্য ক্রেতাকে ৩ টাকা বেশি দিয়ে ৭৮ টাকায় দুধ কিনতে হবে। নেসক্যাফে ক্লাসিক কফি পাউডারের দামও ৩ থেকে ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে নেসক্যাফে ক্লাসিকের ২৫ গ্রামের প্যাকেটের দাম আড়াই শতাংশ বাড়িয়ে তা ৭৮ থেকে ৮০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নেসক্যাফে ক্লাসিকের ৫০ গ্রাম প্যাকেটের দাম ৩.৪ শতাংশ বেড়ে তার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা।

মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে
ভারতীয় ভোক্তাদের জন্য, অনিশ্চিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি সহ গৃহস্থালির বাজেটকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে, যা ইতিমধ্যেই ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির উচ্চ প্রবণতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ভারতের উপভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতির হার ৬.০১ শতাংশ ছিল, যা সাত মাসে সর্বোচ্চ এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ৪ থেকে ৬ শতাংশের নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমা অতিক্রম করেছিল।

প্যাকেজিং খরচ বহন করতে হচ্ছে
এর ফলস্বরূপ, এফএমসিজি সংস্থাগুলি দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চতর কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং খরচ বহন করছে। এ প্রসঙ্গে, প্রভুদাস লিল্লাধরের ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিজের ডিরেক্টর অমনীশ আগরওয়াল বলেন, 'পাম তেল, কফি, দুধ, প্যাকেজিং ইত্যাদি প্রধান বিষয়গুলি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কিউ থ্রি-এর চাপের মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক। প্রান্তিক বাঁচানোর জন্য সংস্থাগুলির কাছে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনও বিকল্প পথ ছিল না।'












Click it and Unblock the Notifications