গঙ্গা-যমুনার জলস্তর বিপদসীমার কাছে যেতেই বন্যার সতর্কতা, বর্ষণে ত্রস্ত উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ
গঙ্গা-যমুনার জলস্তর বিপদসীমার কাছে যেতেই বন্যার সতর্কতা উত্তরপ্রদেশের বহু এলাকায়, বর্ষণের অ্যালার্টে মধ্যপ্রদ
একই সঙ্গে গঙ্গা ও যমুনার জলস্তর বিপদসীমার কাছে যেতে শুরু করে দিয়েছে উত্তর ভারতে। হু হু করে জল বাড়ছে উত্তর ভারতের একাধিক নদীতে। এদিকে প্রবল বর্ষণে বিধ্বস্ত উত্তর ভারতের একাধিক জায়গা। ক্রমেই উত্তরের নীদগুলিতে বাড়তে শুরু করে দিয়েছে জলস্তর। উত্তর প্রদেশের বহু গ্রামে ঢুকতে শুরু করে দিয়এছে প্লাবনের জল। এদিকে, বর্ষণের জেরে গত কয়েকদিনে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রদেশও। একনজরে দেখে নেওয়া যাক দেশের বিভিন্ন এলাকার বর্ষার জলছবি।

১৮ লাখ কিউসেক জল ছাড়তেই জল বাড়ছে নদীতে
রাজস্থানের ধওয়ালপুর ব্যারেজ থেকে ১৮ লাখ কিউসেক জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভেসে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের একাধিক এলাকা। গঙ্গা ও যমুনার জল ক্রমেই নিজের জলস্তর বাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিপদসীমার কাছে। নদীর জলের বিপদসীমা ১৮৪.৭৩ মিটার। আর জল আপাতত তার কাছে চলে গিয়েছে। ফলে উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ ভূভাগ আপাতত বন্যার আশঙ্কায় ত্রস্ত। সেরাজ্যের একাধিক জায়গায় সতর্কতা জারি হয়ে গিয়েছে।

প্লাবনের জল ঢুকছে!
উত্তরপ্রদেশের তেহসিল সদর, সোরাওঁ, ফুলপুর, হান্ডিয়া, বারা, কারচানা, মেজার মতো এলাকায় প্রবল বন্যার জল প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সদিয়ানপুর থেকে কাচার, অশোকনগরে ইতিমধ্যেই প্লাবনের জলরাশি ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে। তবে বন্যার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের প্রশাসন প্রস্তুত বলে জানিয়েছে যোগী সরকার। ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশের বহু জায়গায় ত্রাণের শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে কন্ট্রোল রুমের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর- 0532-2641577, 2641578 জানানো হয়েছে। এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৯৮ টি পুলিশ পোস্ট ও ১১০ টি আশ্রয়স্থল খোলা রয়েছে।

ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সতর্কতা
এদিকে, মধ্যপ্রদেশের একাধিক জায়গায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি হয়ে গিয়েছে। ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে মধ্যপ্রদেশের বুকে। মধ্য প্রদেশের মোট ২৩ টি জেলায় জারি রয়েছে ভারী বর্ষণের অ্যালার্ট । এদিকে, সেরাজ্যের ১৭ জেলায় বিশেষভাবে জারি করা হয়েছে সতর্কতা । ১৭ জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা, ৬ জেলায় রয়েছে কমলা সতর্কতা। এদিকে, মধ্যপ্রদেশের মালওয়া, মন্দসৌর, গুনা, অশোকনগরে জারি রয়েছে কমলা সতর্কতা। ৬৪.৪ মিলিমিটার থেকে ২.৪.৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বর্ষণের সম্ভাবনা এখানে রয়েছে।

১২ জন মৃত
এদিকে, প্রবল বর্ষণের জেরে মধ্যপ্রদেশে প্রয়াত হয়েছেন ১২ জন। গোয়ালিয়ার ও চম্বল ডিভিশনে এখনও পর্যন্ত বহু এলাকায় জল জমে রয়েছে। গতকালই জানা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশের বুকে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বৃষ্টিঘটিত একাধিক ঘটনায়। বর্ষণের জেরে ১২ জন মৃতের পর আর কোনও দুঃসংবাদ শোনা যায়নি মধ্যপ্রদেশে। এদিকে এখনও অন্তত টানা মধ্যপ্রদেশে বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। অবিরাম বর্ষণে কার্যত বিধ্বস্ত দিল্লিও। সেখানে 'বাড়তি' বর্ষণের খবর মিলেছে আবহাওয়া দফতরের তরফে।

১০০০ টি নৌকা নিয়ে প্রস্তুতি
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি ক্রমেই বর্ষার জেরে বিপদের মধ্যে পড়ে যাওয়ায় প্রায় হাজারটির মতো নৌকা নিয়ে প্রস্তুত উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন। সেচ দফতরের সঙ্গে পিডাব্লিউডি দফতর সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করতে শুরু করেছে। যেকোনও রকমের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে এই বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০ জন ডাইভারকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা করতে।

দিল্লিতে প্রবল বর্ষণ
এদিকে, গত ১ জুন থেকে শুধুমাত্র দিল্লির উত্তর পূর্ব দিকে প্রবল বর্ষণের খবর পাওয়া গিয়েছে। বর্ষার জলে দিল্লির যতটা ভেজা উচিত ছিল ততটা ২০২১ সালের বর্ষার শুরুকে দিল্লি ভেজেনি। ৩৩২.২ মিলিমিটার বর্ষণ রাজধানীতে স্বাভাবিক। এদিকে, ১৪৯.৯ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে রাজধানীতে। মনে করা হচ্ছে এর জেরে রাজধানীতে বাড়তি বর্ষণ হয়েছে এবার।

পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে প্রবল বর্ষণ
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই বর্ষণের জেরে বানভাসী পরিস্থিতি। পশ্চিম মেদিনীপুর এথক দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলির বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যেই জলমগ্ন। বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বহু জায়গায় পৌঁছন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, জলমগ্ন শহর কলকাতাও। তারই মাঝে বর্ষণের পূর্বাভাস বহু জেলায় রয়েছে বাংলার বুকে। বাংলায় ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমী অক্ষরেখা এই দুইয়ের প্রভাবেই বর্ষণ চলছে। গত দুই দিন ধরে অঝোর বর্ষণে নাকাল গোটা বাংলা। এদিকে, জানা গিয়েছে শুক্রবার কলকাতায় বিশিরভাগ সময়ই আকাশ মেঘাচ্ছন থাকবে। তবে বজ্র বিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন জেলায়।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications