বহুমূল্য এলপিজি গ্যাস! সরকারি আবাসনে কাঠের উনুনের আবদার বিধায়কের
পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত কয়েদিন ধরেই মোদী সরকারের উপর লাগাতার চাপ বাড়িয়ে চলেছে কংগ্রেস। একটানা কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। এমতাবস্থায় এবার এক কাঠি উপরে উঠে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এস্টেট ডিপার্টমেন্টকে একটি চিঠি লিখলেন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের বিধান পরিষদের সদস্য দীপক সিং। আর তাতেই চাঁচাছোলা আক্রমণ শানাতে দেখা যায় তাঁকে।

ওই চিঠিতেই এমএলএ বাসভবনে গ্যাসের পরিবর্তে কাঠের উপর খাবার রান্না করার অনুমতি চেয়েছেন ওই কংগ্রেস বিধায়ক। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। বিধায়ক বাসভবনে ব্যবস্থাপনা ইনচার্জকে লেখা একটি চিঠিতে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই কংগ্রেস বিধায়ক বলেছেন, “যা অবস্থা তা দেখে মনে হচ্ছে না ২০২৪ সালের আগে এলপিজির এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি থেকে পরিত্রাণ মিলবে। থেকে ত্রাণ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আমি এখনই এর সুরাহা চাই।”
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, “ দয়া করে আমার জন্য বরাদ্দকৃত অ্যাপার্টমেন্টে এবং দালিবাগে বহুতল ভবনের তিনটি ব্লকেই কাঠের উনুনে রান্নার ব্যবস্থা করুন। সমস্ত পরিস্থিতি দেখেই আমি কাঠের উনুন ব্যবহারের অনুমতি চাইছি।কারণ বর্তমানে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের খরচের চেয়ে কাঠ-কয়লা অনেক সস্তা।” নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও লেখেন, ৯৭৫ টাকার একটি এলপিজি সিলিন্ডার মাসে দুবার রিফিল করতে হয়, সেখানে কাঠের চুল্লিতে রান্নার খরচ প্রতি মাসে ৫০০ টাকার কম।”
অন্যদিকে দীবক সিংয়ের আরও দাবি তার ভবনে বসবাসকারী বেশিরভাগ বিধায়কও একই ব্যবস্থা চাইছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবং রান্নার গ্যাসের দামের একটানা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বর্তমানে সবাই বিরক্ত। এমতাবস্থায় এবার জনসাধারণের পাশাপাশি রাজনীতিবিদরাও এলপিজি সিলিন্ডারের পরিবর্তে কাঠের উনুনে রান্নার দাবি তোলায় তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এমনকী দীপক সিংয়ের দাবি সমর্থনে আওয়াড তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। আর তাতেই নতুন করে চাপে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার।
এদিকে বর্তমানে লখনউতে ভর্তুকিযুক্ত এবং ভর্তুকিহীন ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯০০ টাকার বেশি।এদিকে গত সপ্তাহেই ফের বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। ২৫ টাকা বেড়ে কলকাতায় ১৪.২ কেজি ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ৯১১ টাকা। অন্যদিকে পেট্রোল-ডিজেলের একটানা দামও আকাশছোঁয়া। যার ফলে রাস্তা থেকে হেঁশেল, মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের।












Click it and Unblock the Notifications