গুরুতর কোভিড রোগীদের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি বিষণ্ণতা–উদ্বেগ দেখা দেয়, দাবি নতুন সমীক্ষায়

গুরুতর কোভিড রোগীদের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি বিষণ্ণতা–উদ্বেগ দেখা দেয়, দাবি নতুন সমীক্ষায়

করোনা ভাইরাসের পরবর্তী প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে এবং তা আজও চলছে। ল্যান্সেট পাবলিক হেল্‌থ জার্নালে তেমনি এক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যে গুরুতর কোভিড–১৯ অসুস্থতা দীর্ঘমেয়াদিত বর্ধিত প্রতিকূল মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। প্রসঙ্গত, এর আগেও বেশ কিছু গবেষণা দাবি করেছিল যে করোনা ভাইরাস মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে।

হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের ঝুঁকি বেশি অবসাদের

হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের ঝুঁকি বেশি অবসাদের

গবেষকরা দেখেছেন, করোনায় কখনও সংক্রমিত না হওয়া রোগীদের তুলনায় সার্স-কোভ-২-তে আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের রোগ সনাক্ত হওয়ার ১৬ মাস পর্যন্ত তাঁরা হতাশায় ভুগছিলেন। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ হওয়ার পরও শয্যাশায়ী হননি এমন রোগীদের তুলনায় যাঁরা সাতদিন বা তার বেশিদিন যাবৎ শয্যাশায়ী ছিলেন তাঁদের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগ দেখা গিয়েছে। সমীক্ষায় এও উঠে এসেছে যে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া রোগীদের ২ মাসের মধ্যে অবসাদ ও উদ্বেগ কমে যেতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু সাতদিন বা তার বেশি শয্যাশায়ী কোভিড রোগীদের মধ্যে অবসাদ ও উদ্বেগের ঝুঁকি ১৬ মাসের বেশি সময় ধরে থাকে।

১৬ মাস পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকে

১৬ মাস পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকে

করোনায় আক্রান্ত ও করোনা সংক্রমিত নয় এমন রোগীদের ০-১৬ মাস পর্যন্ত অবসাদ, উদ্বেগ, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত চিন্তা এবং কম ঘুমের মতো প্রচলিত-উপসর্গগুলি উঠে এসেছে গবেষকরা সমীক্ষায়। এই সমীক্ষা করা হয়েছিল ডেনমার্ক, ইস্তোনিয়া, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ব্রিটেনে সাতটি গোষ্ঠীর মধ্যে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের অগাস্ট পর্যন্ত ২৪৭,২৪৯ জন মানুষের মধ্যে কোভিডে আক্রান্ত ৯,৯৭৯ (‌৪ শতাংশ) জনকে গবেষণায় যোগ করা হয়েছিল। দেখা যায় যে কোভিডে আক্রান্ত হয়নি এমন রোগীদের তুলনায় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অবসাদ ও কম ঘুমের উপসর্গ বেশি করে দেখা গিয়েছে।

 মানসিক স্বাস্থ্য সকলের জন্য সমান নয়

মানসিক স্বাস্থ্য সকলের জন্য সমান নয়

আইসল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা এই গবেষণার গবেষক উন্নুর আন্না ভালদিমার্সদোত্তির বলেন, ‘‌রোগ নির্ণয়ের ১৬ মাস পর্যন্ত সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি গুরুতর কোভিড-১৯ অসুস্থতার পরে মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণগুলি খোঁজা আমাদের গবেষণার প্রথম ধাপ ছিল।'‌ তিনি এও বলেন, ‘‌সমীক্ষায় দেখা যায় যে সব কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সমান ছিল না এবং শয্যাশায়ী রোগীদের ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদের তীব্রতা বেশি করে দেখা গিয়েছিল।'‌ গবেষকরা দেখেছেন যে খুব দ্রুত যারা কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের উপসর্গ হ্রাস হচ্ছে, একই বিষয় দেখা গিয়েছে হালকা উপসর্গের রোগীর ক্ষেত্রেও।

 হালকা বা মাঝারি কোভিড রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে

হালকা বা মাঝারি কোভিড রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে

তবে গবেষকরা জানিয়েছেন যে গুরুতর কোভিড-১৯ রোগীরা প্রায়ই প্রদাহ অনুভব করে যা পূর্বে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অবসাদের প্রভাব, বিশেষ করে যা হতাশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। গবেষকরা এও জানায় যে, হালকা বা মাঝারি উপসর্গযুক্ত করোনা রোগীরা খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কম ঝুঁকি ফেলে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+