সর্দি–কাশি নিয়ে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করাতে আরএমএল হাসপাতালে মানুষের ভিড়
সর্দি–কাশি নিয়ে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করাতে আরএমএল হাসপাতালে মানুষের ভিড়
করোনা ভাইরাস আতঙ্ক এখন সকলের চোখে মুখে স্পষ্ট। সর্দি, ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন পরীক্ষার জন্য, মহামারি কোভিড–১৯–এর জীবাণু তাঁদের শরীরে প্রবেশ করল কিনা তা জানতে। এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে গত সপ্তাহ থেকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে। যদিও মাত্র কিছুজনেরই স্ক্রিনিং হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ভিড় জমেছে আরএমএল ও সফদরগঞ্জে
এই মুহূর্তে দিল্লির আরএমএল ও সফদরজঙ্গ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বিদেশ সফর থেকে ফিরেছেন বা নিশ্চিত করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন সেই পুরুষ বা মহিলাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে না। যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে যে প্রতিদিন ২৫-৩০টি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রতিদিন। সোমবার আরএমএল হাসপাতালে পরীক্ষা করতে আসাদের মধ্যে ২৯ বছরের রোহিনী, যিনি ২৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি থেকে ফিরেছেন এবং রবিবার থেকে তাঁর গলায় ব্যাথা ও নাক থেকে জল পড়ছে। তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাই, তাই আমি পরীক্ষা করাচ্ছি।'

কিভাবে হচ্ছে নমুনা সংগ্রহ
হাসপাতালের জরুরি ব্লকের পিছনে রেজিস্ট্রশেন কাউন্টার খোলা হয়েছে। কয়েক মিনিটের স্ক্রিনিংয়ের জন্য মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লাইনে অপেক্ষারতদের নিজেদেরই ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে এবং তাঁদের মধ্যে কি কি উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণ করছেন কিনা এবং পজিটিভ আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন কিনা তা উল্লেখ করতে হচ্ছে। হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, যখন কোনও মহিলা বা পুরুষের পরীক্ষার সময় আসছে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেখানে তাঁদের ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি তাঁরা বিদেশে সফর করে বা করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসে এবং তাঁদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তাঁদের হাসপাতাল সংলগ্ন আর একটি ভবনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

নমুনা যাবে এইমস বা এনআইভিতে পরীক্ষার জন্য
এইভাবে সবাইকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার পর নমুনাগুলি যাচ্ছে দিল্লির এইমস অথবা পুনের এনআইভিতে। যদি উপসর্গ গুরুতর হয়, তবে তাঁদের হাসপাতালের বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রেখে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের বাড়ি চলে যেতে বলা হচ্ছে এবং রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরমর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০ বছরের এক তরুণী ২১ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়া সফর থেকে ফিরে ফ্লু-এর মতো উপসর্গ লক্ষ্য করেন তাঁর শরীরে। ৭ মার্চ তাঁর পরীক্ষা হয়। ওই তরুণী বলেন, ‘হাসপাতাল সংলগ্ন বাড়ির দ্বিতীয় তলার স্ক্রিনিং ওয়ার্ডে যখন আমি ঢুকি, ১৫ মিনিট আমার গলা ও নাক বন্ধ ছিল।' ওই তরুণী আরও বলেন, ‘হাসপাতালের পক্ষ থেকে আমায় জিজ্ঞাসা করা হয় যে আমি ভর্তি হতে চাই কিনা, আমি না করে দিই।' চিকিৎসকরা তাঁকে বাড়িতেই আলাদা হয়ে থাকতে বলেন। ওই তরুণী বলেন, ‘এক-দু'দিনের মধ্যেই আমি ভালো হয়ে যাই। আমার মনে হয়েছে আমি সুস্থ আছি। এমনকী আমি এখনও আমার রিপোর্ট পাইনি বা হাসপাতাল থেকেও কিছু শুনিনি।'












Click it and Unblock the Notifications