লোকসভায় বাড়তে পারে আসন সংখ্যা! কোন রাজ্যে কত হতে পারে আসন, বাংলার আসন বেড়ে হতে পারে কত? জানুন একনজরে
প্রস্তাবিত লোকসভা সম্প্রসারণের ফলে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলির নির্বাচনী গুরুত্ব আরও বাড়তে চলেছে। আসন সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এসব রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যদিও আনুপাতিক ভাগ আপাতত অপরিবর্তিত থাকছে।
কেন্দ্রের নারী সংরক্ষণ আইন দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শুধু ৩৩ শতাংশ কোটা বাস্তবায়নের সময়সীমাকেই এগিয়ে আনছে না, বরং লোকসভার আসন সংখ্যাতেও এক বড় পরিবর্তন আনছে। লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮১৬ হতে পারে, যার মধ্যে প্রায় ২৭৩টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

কেন্দ্রের এই প্রস্তাব গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায় যে, এটি কেবল প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্যই নয়; এটি সংসদে প্রতিটি রাজ্যের সংখ্যাগত গুরুত্বও ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করতে পারে। যদিও সরকার রাজ্যগুলির বর্তমান আসন অনুপাত বজায় রাখার কথা ভাবছে, তবে পরম অর্থে আসন সংখ্যা অনেক বাড়বে।
'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণের ফলে ভারতের বৃহত্তম রাজ্যগুলির আসন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এর মানে হল, আনুপাতিক অংশ একই থাকলেও, প্রতিটি রাজ্যের হাতে আসা সাংসদ সদস্যের সংখ্যা বাড়ছে।
যদি বর্তমান ৫৪৩টি আসন থেকে ৮১৬টিতে আনুপাতিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়, তবে প্রতিটি রাজ্যই বেশি সাংসদ পাবে, কিন্তু কোনও রাজ্য তাৎক্ষণিকভাবে তার আপেক্ষিক অংশ হারাবে না। সহজ কথায়, রাজনৈতিক প্রভাব সাময়িকভাবে একই থাকলেও, পরম গুরুত্ব বাড়বে।
আনুপাতিক স্কেলিং অনুযায়ী, সম্ভাব্য আসন সংখ্যার পূর্বাভাস থেকে দেখা যায় যে, হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলি পরম অর্থে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। তাদের বিদ্যমান লোকসভা প্রভাবের আরও বিস্তার ঘটবে।
যেমন, উত্তরপ্রদেশের আসন ৮০ থেকে বেড়ে ১২০ হবে, বিহারের ৪০ থেকে ৬০, মধ্যপ্রদেশের ২৯ থেকে ৪৩-৪৪ এবং রাজস্থানের ২৫ থেকে ৩৭-৩৮ টিতে উন্নীত হবে। এই রাজ্যগুলি এমনিতেই লোকসভার গঠনে প্রভাবশালী, এই পরিবর্তন তাদের প্রভাব আরও বাড়াবে।
পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে, মহারাষ্ট্রের আসন ৪৮ থেকে ৭২ হবে, গুজরাতের ২৬ থেকে ৩৯ এবং ছত্তিশগড়ের ১১ থেকে ১৬-১৭টি হবে। উত্তরপ্রদেশের পর মহারাষ্ট্র দ্বিতীয় বৃহত্তম অবদানকারী রাজ্য হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে।
পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের আসন ৪২ থেকে ৬৩ হবে, ওড়িশার ২১ থেকে ৩১-৩২ এবং ঝাড়খণ্ডের ১৪ থেকে ২১টি হবে। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ আরও বড় রাজনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে নিজের গুরুত্ব বজায় রাখবে।
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতেও আসন বাড়বে—তামিলনাড়ু ৩৯ থেকে ৫৮-৫৯, কর্ণাটক ২৮ থেকে ৪২, অন্ধ্রপ্রদেশ ২৫ থেকে ৩৭-৩৮, তেলঙ্গানা ১৭ থেকে ২৫-২৬ এবং কেরল ২০ থেকে ৩০টি আসন পাবে। যদিও পরম অর্থে আসন বাড়ছে, তবে উত্তরের রাজ্যগুলির তুলনায় তাদের আপেক্ষিক অংশ নিয়ে দক্ষিণী নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উত্তর ও ছোট রাজ্যগুলিতেও বৃদ্ধি দেখা যাবে: পাঞ্জাব ১৩ থেকে ১৯-২০, হরিয়ানা ১০ থেকে ১৫, দিল্লি ৭ থেকে ১০-১১, উত্তরাখণ্ড ৫ থেকে ৭-৮ এবং হিমাচল প্রদেশ ৪ থেকে ৬টি আসন পাবে।
উত্তর-পূর্ব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির অধিকাংশে সামান্য বৃদ্ধি হবে। আসাম ১৪ থেকে ২১টি আসন পাবে। মণিপুর, মেঘালয়-এর মতো উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি এক বা দুটি অতিরিক্ত আসন অর্জন করবে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতেও আসন বাড়বে ক্রমান্বয়ে।
রাজনৈতিকভাবে, এই সংখ্যাগুলি আনুমানিক হলেও, 'বড় রাজ্যের সুবিধা' আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। অনুপাত পরিবর্তন না হলেও, বড় রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয়ত, জোট গঠনের সমীকরণ পরম অর্থে পরিবর্তিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ২৭২ থেকে বেড়ে ৪০৮টি আসনে দাঁড়াবে, যার অর্থ রাজনৈতিক দলগুলিকে আরও বিস্তৃত জোট গঠন করতে হবে বা আঞ্চলিক স্তরে তাদের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে হবে।
একটি দুর্ভাগ্যজনক ফলস্বরূপ, উত্তর বনাম দক্ষিণের বিতর্ক থেকেই যাবে। আনুপাতিক সম্প্রসারণ সত্ত্বেও, দক্ষিণী রাজ্যগুলি ভবিষ্যতের জনসংখ্যা-ভিত্তিক নতুন সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যার ফলে আপেক্ষিক ক্ষমতা উত্তরের দিকে সরে যেতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর তথ্য অনুযায়ী, সরকার এই আনুপাতিক সম্প্রসারণ পদ্ধতির মাধ্যমে নারী সংরক্ষণ (৩৩ শতাংশ) বাস্তবায়ন করতে চাইছে, যাতে বিদ্যমান আসন সংখ্যা কমানো না হয়। এটি আসন হারানো রাজ্যগুলির তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বিরোধিতা এড়াতে এবং একটি আরও বিতর্কিত পূর্ণ সীমানা নির্ধারণ অনুশীলনের আগে সময় দিতে সাহায্য করবে।
৮১৬টি আসনের এই প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে আঁকছে না, তবে এটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বড় করছে। প্রতিটি রাজ্যের আসন বাড়লেও, ক্ষমতার স্তরবিন্যাস আপাতত অক্ষুণ্ণ থাকছে। আসল পরিবর্তন আসতে পারে যখন জনসংখ্যার আপডেটেড তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
-
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
বসন্তের শেষে বাড়ছে পারদ! গরমে কী নাজেহাল হবে শহরবাসী? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জানুন -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ












Click it and Unblock the Notifications