হাতে নেই নিরঙ্কুশ সংখ্যা, কোন বিলগুলি পাস করাতে এবার বেগ পেতে হবে মোদী সরকারকে?
১০ বছর পর প্রথমবার একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেল না বিজেপি। ফলে নরেন্দ্র মোদীকে সরকার চালাতে হবে মূলত জোটসঙ্গীদের নিয়ে। ফলে এবার ইচ্ছামতো বিল পাস করাতে পারবে না মোদী-অমিত শাহ জুটি।এবার এনডিএ সরকারের অন্যতম শক্তি হল বিহারের জেডিইউ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি। ফলে এবার কিন্তু অনেক ভেবে চিন্তে পদক্ষেপ ফেলতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে।
গত এক দশকে নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতায় থাকার ফলে একের পর পর বিল ইচ্ছা মতো পাস করিয়েছে মোদী সরকার। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ থেকে সিএএ, একের পর এক এক বিল সংসদের উভয়কক্ষে পাস করিয়ে চমক দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু বিজেপির ঝুলিতে এখনও বেশ কিছু বিল রয়ে গিয়েছে, যেগুলি তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই পাস করানোর পরিকল্পনা ছিল গেরুয়া শিবিরের।

তৃতীয় দফার মেয়াদে সরকার যে আইন গুলি পাস করানোর লক্ষ্য নিয়েছে তার মধ্যে এক দেশ এক ভোট। এরজন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন হয়। সেই কমিটি ইতিমধ্যেই রিপোর্টও জমা দিয়েছে। কিন্তু তৃতীয় দফার মেয়াদে এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হতে হবে মোদী সরকারকে।কারণ কংগ্রেস, তৃণমূল, সপা, ডিএমকে, আপ প্রত্যেকেই এই বিলের বিরোধী।
সিএএ কার্যকর করার পরের ধাপ হল এনআরসি। দেশজুড়ে এনআরসি চালু করা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মোদী সরকারের। এবার তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার আগে এনসিএ চালু করার প্রতিশ্রুতি শোনা যায় মোদী শাহের গলায়। কিন্তু জোট সরকারের বাধ্যবাধকতা থাকবে এবার। ফলে শরীকদের মন জয় করে এই বিল পাস করানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে মোদী সরকারের কাছে।
সরকারের তৃতীয় লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে সিভিল কোড চালু করা। সব ধর্মের জন্য এক আইন চালু করার লক্ষ নিয়েই ইউসিসির ফাইল তৈরি হয়ে গিয়েছে সরকারের। এবার সেটা সংসদে পেশ করার পরিকল্পনা আছে মোদী সরকারের। কিন্তু আগের মতো আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হাতে নেই মোদীর। ফলে অনেক কঠিন অঙ্ক মিলিয়েই ইউসিসি কার্যকর করতে হবে সরকারকে। এর পাশাপাশি এলাকা পুনবিন্যাস সংক্রান্ত বিলটিও আছে মোদী-অমিত শাহের হাতে।
রাম মন্দিরের স্বপ্নপূরণ আগেই হয়েছে। এবার লক্ষ্য কাশী-মথুরা। কিন্তু উত্তর প্রদেশে এবার হতাশাজনক ফল করেছে বিজেপি।৬২ থেকে আসন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ -এ। এমনকি খোদ অযোধ্যা যে লোকসভার অর্ন্তগত সেই ফৈজাবাদেও জিতেছে সপা। ফলে এবার গো বলয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে হলে অনেক ভেবে চিন্তে নিতে হবে বিজেপিকে। অতিরিক্ত ধর্মীয় আবেগ যে হিতে বিপরীত হতে পারে তার ইঙ্গিত দিল উত্তরপ্রদেশের ফল।












Click it and Unblock the Notifications