মোদীর মুখে 'ঘর মে ঘুস কে মারা'! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা কীভাবে বিজেপির কাছে আশীর্বাদ?
Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করার ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে অন্যতম ফ্যাক্টর ছিল জোড়া সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ২০১৬ ও ২০১৯ সালের।
পাকিস্তানকে যেভাবে উচিত শিক্ষা ভারত দিয়েছিল তা নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের প্রতি বিপুল জনসমর্থন এনে দেয়। এবারের লোকসভা ভোটেও মোদীর মুখে ঘর মে ঘুস কে মারার প্রসঙ্গ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান গতকালই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যাতে দাবি করা হয়েছে, জঙ্গি দমনে ভারত নাকি পাকিস্তানে হত্যালীলা চালাচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্রে এই তথ্য মিলেছে বলে দাবি দ্য গার্ডিয়ানের। ২০২০ সালের পর থেকে ২০ জনকে পাকিস্তানের মাটিতেই প্রাণে মারা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ।
এই হত্যালীলা সংঘটিত করার ক্ষেত্রে র-এর পরিকল্পনা, স্লিপার সেলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যদিও কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেনি দ্য গার্ডিয়ান। পাকিস্তানে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা এই হত্যালীলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দ্য গার্ডিয়ান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্ত দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আগেও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন অন্য দেশে 'টার্গেটেড কিলিং' ভারত সরকারের নীতির মধ্যে পড়ে না।
বিজেপি নেতারা অবশ্য দ্য গার্ডিয়ানের এই প্রতিবেদনকে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির ক্ষেত্রে ঘুরিয়ে আশীর্বাদ হিসেবেই দেখছেন। অর্থাৎ ভারত সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে এই প্রতিবেদনের প্রতিবেদকরা আখেরে কেন্দ্রের শাসক-বিরোধীদের অস্বস্তি বাড়ালেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকালও বিহারের জনসভায় বলেছেন, "আজ কা ভারত ঘর মে ঘুস কে মারতা হ্যায়।" মোদী আরও বলেন, যে দেশগুলি গমের জন্য ভিক্ষা করে সেখানকার জঙ্গিরা আগে আমাদের দেশে হামলা করে পালিয়ে যেত। কংগ্রেস সরকার অন্য দেশের কাছে সে ব্যাপারে অভিযোগ জানাত।
মোদীর এই বক্তব্যের কিছু সময় পরেই দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মোদী আগেও বলেছেন, পাকিস্তানকে এমন ভাষায় জবাব দিতে হবে যা তারা বুঝতে পারে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান বারেবারেই দাবি জানিয়ে আসছে, তারা জঙ্গিদের আশ্রয় দেয় না। ফলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করতে না পেরে চুপই থাকবে পাকিস্তান। আর কংগ্রেস আমলের চেয়ে মোদী জমানায় ভারত যে জঙ্গি দমনে অনেক এগিয়ে রয়েছে তাও বোঝা যাচ্ছে সুস্পষ্টভাবেই। গত ১০ বছরে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলার সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবেই।












Click it and Unblock the Notifications