Lok Sabha Election 2024: মমতা-কেজরি কেন চাইছেন খাড়গেকে? দলিত ভোট বিজেপির দিকে বেড়ে চলাই কি কারণ?
Lok Sabha Election 2024: ইন্ডিয়া জোটের চেয়ারপার্সন হয়েছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। গত মাসেই খাড়গেকে ইন্ডিয়া জোটের তরফে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল নেত্রীর সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে বড় কারণ দলিত ভোট।

খাড়গেকে মুখ করা হলে কিছু সুবিধাও রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে পরিবারবাদ ইস্যুতে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের বিঁধতে পারবে না বিজেপি। খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের, অভাবি পরিবার থেকেই উঠে এসেছেন। সর্বোপরি, প্রথম দলিত প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করার জন্য ভোট চাইতে পারবে বিরোধী জোট।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে লোকনীতি-সিএসডিএসের সমীক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭১ সাল অবধি কংগ্রেসের ঝুলিতেই ছিল দলিত ভোট। তবে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে দলিত ভোট পাওয়ার নিরিখে কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।
তবে এখনও যে রাজ্যগুলিতে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি টক্কর কংগ্রেসের, সেখানে দলিত ভোটের অনেকটাই কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার নিরিখে উত্তরপ্রদেশে তফসিলি জাতির লোকজন রয়েছেন ২০.৫ শতাংশ, দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ (১০.৭ শতাংশ), বিহারে ৮.২ শতাংশ, তামিলনাড়ুতে ১৬.৬ শতাংশ।
সেই জনগণনা অনুযায়ী ভারতের মোট জনসংখ্যার ১৬.৬ শতাংশ মানুষ দলিত সম্প্রদায়ের। পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১০টি তফসিলি জাতি ও ২টি তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ৬২টি তফসিলি জাতি ও ৬৫টি তপসিলি উপজাতি বা জনজাতির জন্য সংরক্ষিত।
খাড়গেকে মুখ করার পিছনে মমতা বা কেজরিওয়াল এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছেন। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী মুখ রাহুল গান্ধীকে করা হলে নরেন্দ্র মোদী ফাঁকা মাঠ পেয়ে যাবেন। রাহুলকে ইন্ডিয়া জোটের অনেকেই মানতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, খাড়গেকে মুখ করে দলিত ভাবাবেগ উস্কে দিলে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং দিল্লি, পাঞ্জাবে দলিত ভোট নিজেদের ঝুলিতে আনতে পারবে।
উল্লেখ্য, খাড়গেকে দলের সভাপতি করার পরেই কর্নাটকে সরকার গঠন করে কংগ্রেস। দলিত ভোট যার বড় ফ্যাক্টর ছিল। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুকে সমর্থন না করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। বাংলায় দলিত ভোট বিজেপির ঝুলিতে যাওয়া মমতার কাছে উদ্বেগের। ফলে খাড়গেকে মেনে নিলে লাভবান হবে তৃণমূল।
২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল যেখানে দলিত ভোট পেয়েছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে বিজেপি পেয়েছিল ২০ শতাংশ। ২০১৯ সালে তৃণমূলের দলিত ভোট প্রাপ্তির পরিমাণ ২৭ শতাংশে নেমে আসে, বিজেপির বেড়ে হয় ৬১ শতাংশ। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি যে ৭৭টি আসনে জেতে তারও বড় কারণ দলিত ভোট।
দলিত অধ্যুষিত এলাকা থেকে অনেক বিজেপি বিধায়ক জয়লাভ করে বিধানসভায় গিয়েছেন। লোকনীতি-সিএসডিএসের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি রাজবংশী ভোট পেয়েছিল ৯ শতাংশ, তৃণমূল পায় ৪৩ শতাংশ। নমশূদ্র ভোট বিজেপি ২০১৬ সালে পায় ১০ শতাংশ, তৃণমূল ৪৩ শতাংশ। অন্যান্য দলিত ভোটের ১১ শতাংশ পায় বিজেপি, তৃণমূল পায় ৪০ শতাংশ।
২০২১ সালের ভোটে বিজেপি রাজবংশী ভোট পায় ৫৯ শতাংশ, তৃণমূল পায় ৩৮ শতাংশ। নমশূদ্র ভোট বিজেপির বেড়ে হয় ৫৮ শতাংশ, তৃণমূলের কমে হয় ৩১ শতাংশ। অন্যান্য দলিত ভোট বিজেপির বেড়ে হয় ৫২ শতাংশ, তৃণমূলকে ৩৭ শতাংশ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। দিল্লি ও পাঞ্জাবেও বিজেপির দলিত ভোট বৃদ্ধির ছবি উঠে এসেছে সমীক্ষায়।
আর সে কারণেই আসন্ন লোকসভা ভোটে খাড়গের জন্য গলা ফাটিয়ে তৃণমূল ও আপ লাভবান হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেক দলিত সম্প্রদায়ের নানা ইস্যুতে আন্দোলন জনমানসে প্রভাব ফেলেছিল। তা সে রোহিত ভেমুলার হত্যাকাণ্ডই হোক, কিংবা আম্বেদকর পেরিয়ার স্টাডি সার্কেল ব্যান করা, ভিমা কোরেগাঁও মামলা, এসসি/এসসি আইন সংক্রান্ত বিষয়। খাড়গেকে প্রধানমন্ত্রী মুখ করা হলে অনেক দলিত সংগঠনও ইন্ডিয়া জোটকে সমর্থন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications