দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দু'দিনের লকডাউনের প্রয়োজন কিনা সরকারকে জিজ্ঞাসা করল সুপ্রিম কোর্ট
শুরুটা হয়েছিল দীপাবলির আগেই। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই দেখা যাচ্ছে, চরমে পৌঁছেছে দিল্লির বায়ুদূষণ। যা নিয়ে কিনা এবার উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুধু তাই নয়, এই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারকে আপৎকালীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও ভাবনা চিন্তা করতে বলল আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রমন বলেন, 'আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, অবস্থা কতটা বাজে। এমনকি আমাদের ঘরের মধ্যেও মাস্ক পরছি আমরা।'

কেন্দ্রকে কী নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের?
ক্রমবর্ধ্বমান বায়ুদুষণের জেরে কেন্দ্রকে দ্রুত কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ উৎসবের মরশুম কেটে যাওয়ার পর এখন দেখা যাচ্ছে মূলত গাড়ির ধোঁয়া এবং ধুলো থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে৷ তাই কাজেই দরকারে দু'দিনের লকডাউনের মতো সিদ্ধান্তও যেন নেওয়া হয়, সেই কথাও জানিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আপনারা বলুন কীভাবে এই আপৎকালীন সমস্যার সমাধান করবেন ভেবেছেন? দুদিনের লকডাউন? এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স কমানো নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা ঠিক কেমন?'

কী বলল কেন্দ্র?
আদালতে সরকার জানায়, এই পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলিকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। সেখানে পঞ্জাব এবং হরিয়ানার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। প্রত্যুত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ' কেন্দ্র, রাজ্যের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবুন। এমন কিছু করতেই হবে যাতে মানুষ অন্তত দু-তিনদিন ভাল থাকেন।' রাজধানীর বায়ূদুষণের কথা মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকারও। কোর্টে তারা বলে, 'আমরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছি। দিল্লিতে শ্বাস নেওয়ার অর্থ দিনে ২০ টা সিগারেট খাওয়া।' অবস্থা এতটাই গুরুতর যে কেন্দ্রীয় পলিউশন ওয়াচডগ মানুষকে ঘরেই থাকতে অনুরোধ করেছে।

কৃষকরা পোড়াচ্ছেন অবশিষ্ট ফসল!
দীপাবলির আগে থেকেই দিল্লিতে দুষণ লাগামছাড়া পর্যায়ে পৌছোচ্ছিল। সলিসিটর জেনারেল কোর্টে জানান, ' কৃষকরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দিচ্ছেন৷ পঞ্জাব, হরিয়ানার সেই ফসলের ধোঁয়ার ফলেই দূষণ ছড়াচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছি। গত পাঁচ ছ দিন ধরে যে দূষণ দেখছেন, তা ওই কারণেই। রাজ্য সরকারেরও উচিত আমাদের সাহায্য করা।'

রেগে যান বিচারপতি!
এর প্রত্যুত্তরেই রেগে যান প্রধান বিচারপতি। তিন বলেন, ' কৃষকদের ওপর দোষ চাপানো যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ-ছ'দিন ধরে বাজি পুড়েছে দিল্লিতে৷ এই বায়ুদুষণের মাঝেই স্কুল কলেজ খোলা রাখা হয়েছে৷ পড়ুয়ারা বাড়ি থেকে বেরোতে বাধ্য হচ্ছে। এটা তো রাজ্যের দায়িত্ব। এর জন্য আপনারা কী করেছেন?'












Click it and Unblock the Notifications