উন্নাওয়ের ধর্ষিতার মৃত্যুতে গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে চলছে জোরদার বিক্ষোভ
শুক্রবার রাতেই মৃত্যু হয় উন্নাওয়ের ধর্ষিতার। যাকে বৃহস্পতিবার জীবন্ত জ্বালিয়ে দিয়েছিল ধর্ষকরা। শনিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দুই মন্ত্রী দেখা করতে আসলে, গ্রামে ব্যাপক বিক্ষোক্ষ শুরু হয়ে যায়। কমল রাণি বরুণ ও স্বামী প্রসাদ মৌর্য়ের কনভয় গ্রামে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাসীরা স্লোগান দিতে শুরু করে, 'এখন কেন এসেছেন’।

দু’জন মন্ত্রীর কনভয় যারা আটকে ছিল, তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। গ্রামের ভেতর ঢুকতে পারেন মন্ত্রীরা। উন্নাওয়ের ধর্ষিতার মৃত্যুর খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ–প্রতিবাদ দেখা দেয়। এই ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে লখনউতে কংগ্রেসের সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখায়। হজরতগঞ্জে কংগ্রেসের কর্মীরা মহিলাদের ওপর বাড়তে থাকা অপরাধকে সামনে রেখে যোগী আদিত্যনাথের সরকারের বিরুদ্ধে মঞ্চ করে প্রতিবাদ করেন। পুলিশ কংগ্রেস সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ইউপিসিসির সমর্থক অজয় কুমার লাল্লুকে পুলিস টেনে নিয়ে যায় এবং অন্য কর্মী–সমর্থকদেরও গ্রেফতার করে। যোগী আদিত্যনাথ ওই দুই মন্ত্রীকে আক্রান্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
২৩ বছরের উন্নাওয়ের ধর্ষিতাকে বৃহস্পতিবার জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় তিনি আদালতে তাঁরই মামলার শুনানিতে যাচ্ছিলেন। শরীরের ৯০ শতাংশ পোড়া নিয়ে তাঁকে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শুক্রবার রাতেই মৃত্যু হয় আক্রান্তের। এই ঘটনার পর আদিত্যনাথ সরকারকে কটাক্ষ করতে শুরু করে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তিনি আক্রান্ত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান যে অভিযুক্তরা তরুণীর বাবার ওপর নির্যাতন করেছে এবং এক বছর ধরে তরুণীর কাকাকে হুমকি দিচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা পুলিশের কাছে জানতে চান যে এখনও পর্যন্ত কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি এও দাবি করেন যে গত একবছর ধরে আক্রান্তের পরিবারকে হেনস্থা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্র রয়েছে, তাই তাদের আড়াল করে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব লখনউতে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার সামনে ধর্নায় বসেন এবং যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেন।
উত্তরপ্রদেশ সরকার আক্রান্তের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও একটি বাড়ি ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের খুব দ্রুত শাস্তি হবে এবং ফার্স্ট ট্র্যাক আদালতে এই মামলার শুনানি চলছে।












Click it and Unblock the Notifications