মধ্যপ্রদেশের ১৭টি ধর্মীয় স্থানে মদ বিক্রি চিরতরে নিষিদ্ধ, আগামীদিনে রাজ্যেই হয়তো নিষিদ্ধ হবে সুরাপান!
বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার মধ্যপ্রদেশে। আর সেখানে এই নিয়ম কার্যকর হওয়াও স্বাভাবিক। গোটা মধ্যপ্রদেশে মদ নিষিদ্ধকরণের পথে এগোচ্ছে সে রাজ্যের বিজেপি শাসিত সরকার। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া করতে চাইছে তারা। তাই এবার মধ্যপ্রদেশ সরকার নিয়ে নিল প্রথম পর্যায়ের সিদ্ধান্ত।
মধ্যপ্রদেশ সরকার শুক্রবার মহেশ্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ১৭টি ধর্মীয় স্থানে মদ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। নতুন আবগারি নীতি অনুযায়ী, দেশি এবং বিদেশি সব ধরনের মদের দোকান বন্ধ করা হবে এই সকল ধর্মীয় স্থানে। মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে এবং শিগগিরই এটি কার্যকর হবে।

যা জানা যাচ্ছে, তালিকায় রয়েছে উজ্জয়িনী, চিত্রকূট, অমরকণ্টক, দাতিয়া, পান্না, মণ্ডলা, মুলতাই, মন্দসৌর, মৈহার, ওমকারেশ্বর, মণ্ডলেশ্বর, ওর্চা, মহেশ্বর শহর এবং ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা।
মুখ্যমন্ত্রী যাদব বলেন, "রাজ্যের যেসব ধর্মীয় স্থান ভগবান কৃষ্ণ এবং ভগবান রামের পদচিহ্নে পবিত্র হয়েছে, সেখানে মদ নিষিদ্ধ করা হবে"। এই পদক্ষেপ রাজ্যের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক চেতনা সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতির অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকটি মহেশ্বরে লোকমাতা রানী অহিল্যাবাই হোলকারের ৩০০তম জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ ছিল বলেই জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা ঐতিহাসিক দুর্গের রাজকীয় সিংহাসন পরিদর্শন করেন এদিন এবং লোকমাতা জির মূর্তির প্রতি পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। আর তারপরই মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "লোকমাতা অহিল্যাবাইয়ের অবদান ভারতীয় সংস্কৃতি, মঠ এবং মন্দিরের নির্মাণ ও সংস্কারে অমূল্য। তাঁর গুণাবলী আমাদের সুশাসনের পথে অনুপ্রাণিত করবে"।
বৈঠকের পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী যাদব এদিন মহেশ্বর ঘাটে মা নর্মদার পুজো করেন এবং লোকমাতা দেবী অহিল্যাবাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, "আমরা তাঁর স্মৃতিতে সুশাসনের একটি নতুন যুগের সূচনা করব এবং তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে এগিয়ে যাব"।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং মদ সম্পর্কিত সামাজিক সমস্যাগুলি সমাধানের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মদের দোকান বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করে তুলবে বলেও মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications