বাংলাদেশের মতো ভারতের বিরুদ্ধেও হয়েছে বিদেশি ষড়যন্ত্র, কীভাবে সরকার তা ব্যর্থ করেছে, জানুন অজানা তথ্য
পাঁচ অগাস্ট, সোমবার শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়ে প্রাণ ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিয়ে মহঃ ইউনুস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শেখ হাসিনার ইস্তফার পর থেকেই বলছেন, বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে আমেরিকা ও পাকিস্তানের হাত। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মহঃ ইউনুসকে বেছে নেওয়া থেকে যা পরিষ্কার। অন্যদিকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা এব্যাপারে আমেরিকাকেই দায়ী করেছেন।
শুধু যে বাংলাদেশে এখন অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে এমনটা নয়। ভারতকে অস্থির করতে বিদেশি হস্তক্ষেপ হয়েছে বারে বারে। যদিও ভারত তা সফল ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে এবং বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি এড়াতে পেরেছে।

বহিরাগত শক্তি অশান্তি উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপগুলি নিশ্চিত করেছে, দেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
- সরকারের পদক্ষেপ
সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের এজিডি ও সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই কমিটি বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং সেখানে বসবাসকারী হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
- কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞরা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারতের সাফল্যের ওপরে গুরুত্ব দিয়েছেন। ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড কমফ্লিক্ট স্টাডিজের একজন সিনিয়ার ফেলো অভিজিৎ আইআর মিত্র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ভারতের শক্তিশালী বিদেশ নীতি ও বিদেশি এনজিও তহবিলের কঠোর নিয়ন্ত্রণকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ওমিডিয়ার এবং হিন্ডেনবার্গের মতো সংস্থাগুলি তাদের স্বার্থের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের সমালোচনা করেছে। কিন্তু ভারত সরকারের দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পেরেছে দেশ।
বাংলাদেশের হিন্দুরা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় কারণেই ১৯৭১ সাল থেকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এমনটাই বলছেন বিদেশ নীতি ও পলিটিক্যাল ইকনোমির বিশেষজ্ঞ প্রমিত পাল চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের হিন্দুদের পরিকল্পিত টার্গেট করা এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যার সময় পাকিস্কানি সেনাবাহিনীর কৌশলের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সেই সময় বাঙালি বুদ্ধিজীবী শ্রেণিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মূল করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার পিছনেও রয়েছে সেই একই অভিযোগ। যা এই অঞ্চলের অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
- কী হয়েছিল ভারতে
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মতো দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলিকে সহজেই মোকাবিলা করেছে সরকার। গ্রেটা থানবার্গ ও রিহানার মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা বিষয়টি প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার পরেও ভারত সরকার অবস্থানে অবিচল থাকে। যা সরকারের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। অনেকেই একমত যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থানকে মজবুত করেছে। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাও প্রমাণ করে দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications