কোন পথে ত্বরাণ্বিত হল বিহারের মহাজোটের ভাঙন, একনজরে
একনজরে দেখে নেওয়া যাক নীতীশ কুমারের জেডিইউ এর সঙ্গে জোট গড়া আরজেডির লালুপ্রসাদের সফরকাল কেমন ছিল।
২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের পর,বিহারের মুখ্যমত্র্রী পদে আসীন হন নীতীশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর তৃতীয়তম পর্যায়কালের ইতি , বুধবারই টেনে দিলেন নীতীশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তাফ দেন তিনি। মূলত জোট রাজনীতি অঙ্কের হিসাবেই তাঁর এই পদত্যাগ। একনজরে দেখে নেওয়া যাক নীতীশ কুমারের জেডিইউ এর সঙ্গে জোট গড়া আরজেডির লালুপ্রসাদের সফরকাল কেমন ছিল। ২০১৫ সালে বিহারের নির্বাচন জিতে জেডিইউ-আরজেডি-কংগ্রেস জোট সরকার ২৪৩টির মধ্যে ১৭৮ টি আসন দখল করে সরকার গঠন করে।

- বিহারের সরকার গঠনে নীতীশের জেডিইউ এর হাতে ছিল ৭১ টি আসন,সেখানে লালু প্রসাদের আরজে়ডির হাতে ছিল ৮০ টি আসন। এই অঙ্কের মধ্যে ২৭ টি আসনে জেতে কংগ্রেস।
- সেই সময়ে জোট সরকারে লালু প্রসাদকে সঙ্গে নিয়ে দেশ জুড়ে বিজেপি বিরোধিতায় নামার আহ্বান জানান নীতীশ কুমার।
- বিহারের মন্ত্রীসভায় উপমুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হন আরজেডি বিধায়ক তথা লালুপ্রসাদের পুত্র তেজস্বী যাদব।
- দুটি বিরোধী দলের এভাবে জোট বাঁধায়, প্রায় ২৪ বছর বাদে নীতিশ-লালুকে একসঙ্গে দেখা যায় একই মঞ্চে।
- কিন্তু ধীরে ধীরে বিভিন্ন ইস্যুতে আরজেডির সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে থাকে নীতীশের জেডিইউ।
- এরকম এক পরিস্থিতে দুর্নীতি ইস্যুতে লালুপ্রসাদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়।
- তল্লাশি চালানো হয় লালুপ্রসাদের বাড়িতে। সেই দুর্নীতিতে নাম জড়ায় লালু প্রসাদের ছেলে তথা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের ।
- এরকম এক পরিস্থিতিতে বিজেপি ক্রমাগত বিহারে নীতীশ কুমারের ওপর তেজস্বীকে ছেঁটে ফেলার জন্য চাপ বাড়াতে থাকে।
- বিজেপি নীতিশের সঙ্গে সরকার গড়ার বিষয়েও আহ্বান জানায় জেডিইউকে। এদিকে, তেজস্বীর নাম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তি বাড়তে থাকে নীতীশ সরকারের।
- অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে বিহারের তৎকালীন রাজ্যপাল তথা বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দকে সমর্থন করেন নীতীশ। যা অবশ্যই রাজনৈতিক অঙ্কের হিসাবে নীতীশের মোদীপন্থী পদক্ষেপ বলে মনে করেছেন অনেকে।
- এরপরই তেজস্বীকে অপছন্দের কথা দিল্লিতে রাহুল গান্ধির সঙ্গে বৈঠকে গিয়ে জানিয়ে আসেন নীতীশ কুমার। কারণ বিহারে জোট সরকারে কংগ্রেসও সামিল। তাই কংগ্রেসের তরফে রাহুলকে একথা জানান তিনি।
- এরপরই কানাঘুষো রটতে থাকে যে তেজস্বীকে ছেঁটে ফেলতে পারেন নীতীশ। যদিও সে বিষয়ে লালুও পাল্টা হুঙ্কার দিতে থাকেন।
- তবে শেষমেশ লালু প্রসাদের আরজেডি -র সঙ্গে জোট ভেঙে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার।












Click it and Unblock the Notifications