রক্তের নমুনায় সীসা–নিকেল, চালে পারদ, অন্ধ্রপ্রদেশের এই অজানা রোগের কারণ নিয়ে ধন্ধে বিশেষজ্ঞরা
রক্তের নমুনায় সীসা–নিকেল, চালে পারদ, অন্ধ্রপ্রদেশের এই অজানা রোগের কারণ নিয়ে ধন্ধে বিশেষজ্ঞরা
একে তো করোনার থাবা তারপর শিরে সংক্রান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে রহস্যজনক রোগ, যার কারণজানা যায়নি এখনও। অথচ এক সপ্তাহ আগে অন্ধ্রপ্রদেশের ইলুরু শহরে রহস্যজনক অজানা অসুখে ভুগে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০ জনের বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সরকার নিয়োজিত ২১ জনের কমিটির পাশাপাশি আরও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের দল অসুস্থ হওয়ার আগে আক্রান্তের খাওয়া খাবারের মধ্যে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা খুঁজে পেয়েছে। রাজ্য সরকার ওই রিপোর্টগুলি খতিয়ে দেখবে এবং শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগনমোহন অমরাবতীর মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেছেন। প্রসঙ্গত, গত ১০ ডিসেম্বর একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে দু’জন ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারাও যান, যদিও রাজ্য জানিয়েছে যে মৃতদের অন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা ছিল।

দৈনিক আক্রান্ত কমছে
এই অজানা রোগে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যাও কমছে। শুক্রবার মাত্র চারজন এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জন। যার মধ্যে ১৩ জনের চিকিৎসা চলছে এবং বাকিরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। যদিও এটা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয় যে ঠিক কি কারণে এই রোগের প্রকোপ। রাজ্য সরকার জানিয়েছে তারা বিস্তারিত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। রিপোর্টগুলি কী বলছে দেখে নেওয়া যাক

এইমস ও অন্যান্য ইনস্টিটিউট
এইমস ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল টেকনোলজি আক্রান্তের রক্তের নমুনার মধ্যে সীসা ও নিকেল পেয়েছে, তবে তারা জলের নমুনায় কিছু পায়নি।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন চালের মধ্যে পারদ ও সবজির মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে কীটনাশক ও ভেষজনাশক পেয়েছে। গবেষকরা রক্তে অর্গানোফসফরাসও খুঁজে পেয়েছে , কিন্তু সেগুলি মানবদেহে কীভাবে প্রবেশ করল তা গবেষণা করে দেখা হবে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পরীক্ষা
চারপাশের বায়ুর গুণগত মান ও জল নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ তাদের গবেষণায় দেখিয়েছে যে জল বা বায়ুতে কোনও ভারী ধাতব বস্তুর উপস্থিত নেই। ইনস্টিটিউ অফ প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা দুধেও কোনও ভারী ধাতব পদার্থ পায়নি।

পানীয় জলের নমুনা বারংবার পরীক্ষার নির্দেশ
প্রাথমিকভাবে যেহেতু এই রোগের কারণ হিসাবে জলের দূষণকেই দায়ি করা হয়েছে তাই মুখ্যমন্ত্রী সব বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ দিয়েছে যে পানীয় জলের নমুনা বারংবার পরীক্ষা করা হোক। কারণ ইতিমধ্যেই বিজয়ওয়াড়ার বেসরকারি ল্যাব ইঙ্গিত দিয়েছে যে গান্ধী কলোনী, রামচন্দ্র রাও পেটা, পেনশন লাইন এলাকা ও জ পি কলোনি অঞ্চলের পানীয় জলে উচ্চ পরিমাণে কীটনাশকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা অনুমোদিত সীমার হাজার গুণ বেশি।

কীটনাশক ব্যবহারের কারণে হতে পারে এই রোগ
নির্বিচারে ব্যবহৃত কীটনাশক ও কীট-পতঙ্গের রাসায়নিকে অর্গানক্লোরিন ও অর্গাফসফসরাস বিষ থাকতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের জৈব চাষ সম্পর্কে শিক্ষিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

কোভিড–১৯ জীবাণুমুক্তের কার্যক্রম
বিশেষজ্ঞরা আরও আশঙ্কা করে জানিয়েছেন যে কোভিড-১৯ জীবাণুমুক্ত করার কার্যক্রমে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্লোরিন ও ব্লিচিং পাউডারের জন্য বিষ শরীরে যেতে পারে।

২১ সদস্যের কমিটি
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে মুখ্য সচিব নীলম সাহানির নেতৃত্বে ২১ সদস্যদের কমিটি গঠন করেছে, যারা অজানা রোগ নিয়ে তদন্ত করবে। গত ৫ ডিসেম্বর প্রথম এই রোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রোগের উপসর্গ হল বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যাথা, মৃগী, উদ্বেগ, অচৈতন্য হয়ে যাওয়া। খুব শীঘ্রই ইলুরু শহরের বেশিরভাগ জনের শরীরে এই উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে এবং তাঁরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের দ্বারস্থ হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে রোগীরা ১০-১৫ মিনিটের জন্য সবকিছু ভুলে যাচ্ছেন এবং পরে তা মনে করতে পারছেন না।












Click it and Unblock the Notifications