ভিন্ন মতের প্রাক্তন বিচারপতিদের 'হুমকি'! আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর তীব্র নিন্দা আইনজীবী মহলের একাংশের
কিছু অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ভারত বিরোধী গ্যাং-এর অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করলেন সুপ্রিম কোর্টে এবং বিভিন্ন হাইকোর্টের ৩০০-র বেশি আইনজীবী। এব্যাপারে তাঁরা বিবৃতিও জারি করেছেন। তাঁরা বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের হুমকি দিয়ে আইনমন্ত্রী নাগরিকদের বার্তা দিচ্ছেন, ভিন্নমতের কাউকে ছাড়া হবে না।

সরকারের সমালোচনা ভারত বিরোধী নয়
এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা মন্ত্রীকে মনো করিয়ে দিতে চান যে, সরকারের সমালোচনা দেশের বিরুদ্ধে নয়, তা ভারত বিরোধীও নয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের হুমকি দিয়ে আইনমন্ত্রী নাগরিকদের বার্তা দিতে চাইছেন, ভিন্নমতের কণ্ঠকে কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। মন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন তাঁরা।

সরকারের সমালোচনা করা মানবাধিকার
আইনজীবীরা বলেছেন, সরকারের সমালোচকরা সরকারের মতোই দেশপ্রেমিক। সমালোচকরা যাঁরা প্রশাসনের ব্যর্থতা বা ত্রুটি বা সাংবিধানিক নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন, তা তাদের অধিকার। তাঁরা তাঁদের মানবাধিকার প্রয়োগ করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন আইনজীবীরা।

অযৌক্তিক আক্রমণ
স্বাক্ষরকারী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিজের বিরুদ্ধে যা আক্রমণ করেছেন তা অযৌক্তিক। এবিষয়টিকে অবজ্ঞা করা উচিত বলেও মনে করেন তাঁরা। যাঁরা আইনের শাসনকে তুলে ধরার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য নিচু মনের পরিচয় বলেও মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

আইনমন্ত্রীকে দায়িত্ব স্মরণ করিয়েছেন
আইনজীবীরা কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীকে তাঁর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন কিরেণ রিজিজু একজন সংসদ সদস্য হিসেবে ভারতের সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছেন। সেখানে বিচার ব্যবস্থাকে রক্ষা করা তাঁর কর্তব্য। এর মধ্যে বিচারবিভাগ ছাড়াও অতীত ও বর্তমানের বিচারপতিরাও পড়ে যান। তাঁরা আরও বলেছেন, কিছু অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সঙ্গে আইনমন্ত্রী দ্বিমত থাকতেই পারে, , তবে তাঁদের আলাদা করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া আইনমন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

মন্ত্রীর যে মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক
এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০২৩-এর ১৮ মার্চ এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, যাঁরা আদে উঁচু সাংবিধানিক অফিসে ছিলেন, তাণরা এখন ভারত বিরোধী গ্যাং-এর অংশ হিসেবে কাজ করছেন। মন্ত্রী আরও বলেছেন তাঁরা সাংবিধানিক অধিকারের সব সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন ভারত বিরোধী গ্যাং চেয়েছিল বিচার বিভাগকে বিরোধীদের ভূমিকা পালন করাতে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, কেউ পালাতে পারবে না। যাঁরা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাঁদের মূল্য দিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications