রঙের উৎসবে মহিলাদের হাতে পুরুষদের লাঠিপেটার রীতিই 'লাঠমার হোলি'! নেপথ্যে রয়েছে কোন প্রচলিত কাহিনি
হোলিতে মহিলাদের হাতে পুরুষদের লাঠিপেটার রীতিই 'লাঠমার হোলি'! নেপথ্যে রয়েছে কোন প্রচলিত কাহিনি
সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলার আশপাশের কোনও এলাকায় এমন রীতি দেখা যায় না। এই রীতি নেই দক্ষিণ ভারতেও। এমনকি উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশেও দেখা মেলে না লাঠমার হোলির। তবে উত্তরপ্রদেশের মথুরা-বৃন্দাবন সেজে ওঠে। নন্দগাঁও সেজে ওঠে এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে। সেজে ওঠে উত্তরপ্রদেশের বারসনা গ্রাম। তবে যুগ যুগ ধরে রঙ মাখানোর সোহাগের মধ্যেই কেন লাঠি হাতে মহিলারা পুরুষদের সেখানে মারধর করেন, তা নিয়ে অনেকেরই রয়েছে কৌতূহল। কেন এমন রীতি? নেপথ্যে দেখে নেওয়া যাক কোন কাহিনি রয়েছে।

রাধা-শ্রীকৃষ্ণের কোন কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত লাঠমার হোলি?
মূলত, এক পৌরাণিক কাহিনিকে অবলম্বন করেই উত্তর প্রদেশের বুকে লাঠমার হোলি আয়োজিত হয়। পৌরাণিক যুগে রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে সম্পর্ক ঘিরে নানা ধরনের কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। তেমনই এক কাহিনি লাঠমার হোলি। যেখানে বলা হয় রাধার হাতে নাকি নন্দলাল কৃষ্ণ মার খেয়েছিলেন হোলির সময়। কেন এমনটা ঘটেছিল, তা নিয়ে রয়েছে তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকতে পারে। পুরাণে তা নিয়ে বহু ঘটনা লেখাও রয়েছে। তবে সেই প্রচলিত কাহিনিকে ধরে রেখে ভারতের বুকে হোলির মতো রঙিন উৎসবে মারধরের মতো ঘটনা ঘটে যায়, দেখে নেওয়া যাক।

রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের কাহিনি
শোনা যায়, একবার ছোটবেলায় শ্রীকৃষ্ণ মা যশোদার কাছে প্রশ্ন করেন , কেন তাঁর গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ? এই নিয়ে একটি প্রচলিত ভজন রয়েছে, '..পুছে নন্দলালা, রাধা কিউঁ গোরি, ম্যায় কিউঁ কালা'। ছেলের মুখে এই প্রশ্ন শুনে তো অবাক যোশাদা। তখন যশোদা বলেন, যদি রঙ নিয়ে রাধাকে আর বন্ধুদের লাগিয়ে দিতে পারো, তাহলে আবিরের রঙে সবাই সমান হয়ে যাবে, তাতে আর কারোর গায়ের রঙ আলাদা করে বোঝা যাবে না। এই কথা শুনেই শ্রীকৃষ্ণ বরসানা গ্রামে যান। যে গ্রামে রাধা বাস করতেন।

নন্দগাঁও- বারসানার কাহিনি
শোনা যায়, হোলির দিন বারসারা গ্রামে নন্দগ্রাম থেকে রওনা হন শ্রীকৃষ্ণ। সেখানে গিয়েই রাধা ও তাঁর সখীদের রঙ লাগাতে যান শ্রীকৃষ্ণ । এমন সময় মজার ছলে রাধা বোঝাতে যান যে তিনি বেশ রেগে রয়েছেন! আর সেই জন্যই মজার ছলে শ্রীকৃষ্ণকে লাঠি দিয়ে মারেন। যাতে বারসানা গ্রাম ছেড়ে শ্রীকৃষ্ণ চলে যান , তার জন্যই রাধা এমন করেন , বলে মুখে বললেও, আসলে এটি ছিল মজার ছলে ছোট্ট শ্রীরাধার খেলার ধরন। এমনই কাহিনি প্রচলিত রয়েছে যুগ যুগ ধরে।

লাঠমার হোলি কীভাবে পালিত হয়
শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার কাহিনিকে স্মরণ করে প্রতিবছর বারসানা গ্রামে নন্দগ্রাম থেকে পুরুষরা আসেন। সেখানে গিয়ে মহিলাদের রঙ মাখানোর প্রচলন রয়েছে। যারপরই মহিলারাও প্রতীকি লাঠি নিয়ে পুরুষদের মারেন। এই রীতি বৃন্দাবন ও মথুরায় বহুল প্রচলিত। সেখানে শ্রীকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দিক খেয়াল রেখে ধুমধাম সহকারে পালিত হয় লাঠমার হোলি। এই হোলি খেলার একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। শুধুই যে মারধর হবে , তা নয়। খেলার নিয়মে রয়েছে উৎসবকে পরতে পরতে উপভোগ করার বহু রসদ।

লাঠমার হোলির নিয়ম
খেলার নিয়ম হল, মহিলারা এই হোলির সময় লাঠি নিয়ে দৌড়বেন। তাড়া করবেন পুরুষদের। আর পুরুষরা যতটা পারবেন নিজেদের আড়ালে রাখবেন । আর লুকিয়ে থাকতে হবে পুরুষদের । সেই জায়গা থেকে খুঁজে বের করে পুরুষদের মারধরও করতে হবে আবার রঙ মাখিয়ে মারধরের জন্য ক্ষমাও চেয়ে নিতে হবে। এই নিয়মেই লাঠমার হোলি প্রচলিত রয়েছে।

রাধারানী মন্দির ও লাঠমার হোলি
সারা দেশে শ্রীরাধার জন্য একটিই মন্দির রয়েছে। তা রয়েছে উত্তরপ্রদেশের বরসনা গ্রামে। সেখানেই আয়োজিত হয় লাঠমার হোলি উৎসব। শ্রীধারিকার গ্রাম এই বরসনা। সেখানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন মানুষের ভিড় হয়, তেমনই বিদেশ থেকেও আসেন মানুষ হোলির সময়।












Click it and Unblock the Notifications