Tripura Elections 2023: CPIM রাজ্য সম্পাদকের কেন্দ্রে নেই তিপ্রা মোথা প্রার্থী! শেষ মুহূর্তের আলোচনায় জল্পনা
শেষ মুহূর্তে কি ত্রিপুরায় বাম-তিপ্রা মোথার জোট হতে পারে? দুপক্ষের কথোপকথনে মনোনয়ন প্রত্যাহারে আদে জল্পনা তীব্র হয়ে উঠেছে।
রাজ্য বামফ্রন্ট তথা সিপিআইএম তাঁর কাছে জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা তা না করে বিজেপির উত্তর-পূর্ব জোটের সুপ্রিমো হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সেখানে বৃহত্তর তিপ্রাল্যান্ডের দাবিতে অনড় থাকায় সব কিছুই ভেস্তে যায়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরের দিনের ফোনাফুনিতে রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে। যা ত্রিপুরার রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদকের কেন্দ্রে প্রার্থী নেই তিপ্রা মোথার
এবার ত্রিপুরায় সিপিআইএম প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রবীণ মানিক সরকার এবং বাদল চৌধুরীর মতো নেতাদের। আবার সেখানে প্রবীণ হলেও প্রার্থী করা হয়েছে জিতেন্দ্র চৌধুরীর মতো উপজাতি নেতাকে। সাব্রুম থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। যেখানে কোনও প্রার্থী দেয়নি তিপ্রা মোথা। যেখানে প্রাক্তন সাংসদ ছাড়াও জিতেন্দ্র চৌধুরীর বর্তমান পরিচয় সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক। বলে রাখা ভাল সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক হিসেবে রাজ পরিবারের সদস্য তথা উপজাতিদের অবিসংবাদী নেতা দশরথ দেব ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

মঙ্গলবার দুই নেতার কথা
এদিন ত্রিপুরা সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ১৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করতে তাদের সঙ্গে তিপ্রা মোথার কথা শুরু হয়েছে। এদিন সকালে তিপ্রা মোথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা তাঁকে ফোন করেন। তিনি (প্রদ্যোত) বলেন, সাব্রুম, যেখান থেকে তিনি (জিতেন্দ্র চৌধুরী) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেই আসন থেকে তারা (তিপ্রা মোথা) কোনও প্রার্থী দেয়নি। তিনি আরও দাবি করেছেন, প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বিজেপিকে পরাস্ত করছে সিপিআইএম এবং তিপ্রা মোথা, যে যেখানে দুর্বল, সেখানে একে অপরকে সমর্থন করার বিষয়টি ভেবে দেখছেন। জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, এদিন বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও, মনোনয়ন প্রত্যাহার দিন অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তবে এব্যাপারে তিপ্রা মোথার তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৪০ আসনে প্রার্থী তিপ্রা মোথার
ত্রিপুরা বিধানসভায় ৬০ টি আসনের মধ্যে ২০ টি আসন উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। এই কুড়িটি আসন ছাড়াও আরও ৭-৮ টি আসনে তিপ্রা মোথার প্রভাব রয়েছে। এবারের নির্বাচনে তারা মোট ৪০ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সিপিআইএম ছাড়াও কংগ্রেস এবং বিজেপিও আগে তিপ্রা মোথার সঙ্গে জোট গড়তে কথা বলেছিল। সেই সময় তিপ্রা মোথা তাদের বৃহত্তর তিপ্রাল্যান্ডের লিখিত প্রতিশ্রুতির দাবিতে অনড় থেকেছে।

বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা, জোট নয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে ত্রিপুরায় বাম-কংগ্রেসের মধ্যে আসন ভাগাভাগির ফল সন্তোষজনক নয়। সিপিআইএম তথা বামফ্রন্ট ৪৭ টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ১৩ টি আসন কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে রাখে। পরে কংগ্রেস সেই ১৩ টি ছাড়াও আরও তিনটি আসন অর্থাৎ ১৬ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। রাজ্য কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন সোমবার বলেছেন, বিজেপিকে হারাতে তারা বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করেছেন। তাদের মধ্যে কোনও জোট হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications