প্রকৃতির রুদ্র রূপ দেখছে হিমাচল, চন্দ্রভাগার গতি রুখে দিল ধস, সংকটে লাহুল-স্পিতির উপত্যকা
প্রকৃতির রুদ্র রূপ দেখছে হিমাচল, চন্দ্রভাগার গতি রুখে দিল ধস, সংকটে লাহুল-স্পিতির উপত্যকা
একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা হিমাচল প্রদেশে। একের পর ধস নামছে রাজ্যে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। আবারও রুদ্ররূপ দেখাল হিমালয়। ধসে আটকে দেল চন্দ্রভাগা নদীর গতিপথ। যার জেরে লাহুল স্পিতির পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকট জনক গায়গায় চলে গিয়েছে। প্রায় ২০০০ লোকের বসতি লাহুল-স্পিতি এলাকায় নদীর জলে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হিমাচলে ফের ধস
ফের হিমাচল প্রদেশে ধস। গত জুন মাস েথকে দফায় দফায় ধস নামছে হিমাচল প্রদেশে। শুক্রবার সকাল সাড়ে নটা নাগাদ বিধ্বংসী ধস নেমেছে হিমাচল প্রদেশে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চন্দ্রভাগা নদীর গতিপথ একেবারে রুদ্ধ করে ফেলেছে ধস। িহমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতি এলাকায় ঘটেছে এই বিপর্যয়। নদীর কাছেই রয়েছে যশরথ গ্রাম। সেখানে উপত্যকা এলাকায় চাষের কাজ করেন গ্রামবাসীরা। ২০০০ লোকের বাস সেই উপত্যকায়। চন্দ্রভাগা নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদীর জল গতি না পেয়ে উপত্যকার গ্রামগুলিকে প্লাবিত করতে পারে। তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লাহুল-স্পিতির কমিশনার নিরজ কুমার জানিয়েছেন, সেখানে বিপর্যয় মোকাবিলা দল পাঠানো হয়েছে। দ্রুত যাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় তার তোরজোড় করা হচ্ছে। ধসের মাটি পাথর সরিয়ে নদীর গতিপথ মুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ধস বাড়ছে হিমাচলে
কয়েকদিন আগেই ধস নেমেছিল হিমাচল প্রদেশে। সিমলাগামী রাস্তায় ধসে চাপা পড়ে গিয়েছিল একটি সরকারি বাস। তাতে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের উদ্ধারে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে পাঠানো হয়। একের পর এক ধসের ঘটনা বাড়ছে হিমাচল প্রদেশে। একাধিক রাস্তায় ধস নেমে অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে পথ। চামোলিতে পাহাড় থেকে ক্রমাগত গড়িয়ে আসছে বড় বড় পাথর, বোল্ডার। যার কারনে সড়ক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে এভাবেই বোল্ডার গড়িয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল ৯ পর্যটকের গাড়িতে। হিমাচল প্রদেশে এই ধরনের বিপর্যয় বাড়তে শুরু করায় শঙ্কিত পরিবেশবিদরা।

হড়পা বান
শুধু ধস নয় হড়পা বানও দেখা দিয়েছে হিমাচল প্রদেশে। কয়েকদিন আগেই ধর্মশালায় প্রবল হড়পা বান দেখা দিয়েছিল। ভয়ঙ্কর জলের স্রোতের সেইছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। হড়পা বানের ভয়ঙ্কর স্রোতে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছিল একাধিক গাড়ি। পর্যটক বোঝাই হিমাচল প্রদেশে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একাধিক পর্যটক মারা গিয়েছেন হিমাচল প্রদেশে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই হিমাচল প্রদেশে একের পর এক বিপর্যয় বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছে। শুধু হিমাচল প্রদেশ নয় উত্তরাখণ্ডেও চলছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। কেদারনাথ বদ্রীনাথের একাধিক রাস্তায় ধস নেমেছে। কয়েক বছর আগে কেদারনাথে হ্রদ ফেটে বিপর্যয় এখনও মনে রয়েছে সকলের। ভয়ঙ্কর সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় গৌরীকুন্ড।

বিপর্যয় বাড়বে
আইপিসিসি-র রিপোর্ট বলছে যেভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে তাতে আরও বিপর্যয় বাড়বে বিশ্বে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাড়বে। পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টি বাড়বে। তার থেকে ধসের মতো বিপর্যয় বাড়বে। বাড়বে হড়পা বান, মেঘ ফেেট বৃষ্টির সংখ্যাও। তারই ইঙ্গিত মিলছে হিমাচল প্রদেশে। গত কয়েক বছর ধরেই হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে প্রাকৃতি বিপর্যয়ের প্রকোপ বেড়েছে। মে মাস থেকে একাধিক বার ভূমিকম্প হয়েছে হিমাচল প্রদেশের চামোলিতে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিদরা। সমুদ্রে জলস্তরও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।












Click it and Unblock the Notifications