রাজ্যের মর্যাদা হারানো কাশ্মীরের থেকে কোথায় আলাদা বিধানসভামুক্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ
রাজ্যসভায় জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের লক্ষ্যই ছিল দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দ্বিখণ্ডিত করে রাজ্যের মানচিত্রকে নতুন করে তৈরি করা।
রাজ্যসভায় জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের লক্ষ্যই ছিল দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দ্বিখণ্ডিত করে ভূস্বর্গের মানচিত্রকে নতুন করে তৈরি করা। তাই প্রস্তাবিত বিলে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখের জন্য দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই মতোই জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

দুটি একই ক্যাটাগরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নয়
একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় জানিয়ে দেন, দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য এক হবে না। জম্মু ও কাশ্মীর যেমন রাজ্যের তকমা হারাচ্ছে, তেমনই এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে থাকছে পৃথক বিধানসভা। কিন্তু লাদাখের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা থাকছে না। লাদাখ বিধানসভাহীন কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হবে।

লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা
অমিত শাহ আরও বলেন, লাদাখকে এটি একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হল। কারণ লাদাখবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তাদের পৃথক রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া। রাজ্যসভায় সেই প্রস্তাব রাখেন অমিত শাহ। তা গৃহীতও হয়। লাদাখকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়।

সীমনা্ত সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের দ্বারা চালিত। এই রাজ্যের বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা পরিস্থিতি বিবেচনা করে, জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পৃথখ বিধানসভা থাকবে। লাদাখে তা থাকবে না।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কী?
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গল একটি ক্ষুদ্র প্রশাসনিক ইউনিট যা ইউনিয়ন, যা কেন্দ্র দ্বারা শাসিত হয়। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়। এখনও পর্যন্ত ভারতের সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল। তা হল- দিল্লি, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দাদরা এবং নগর হাভেলি, চণ্ডীগড়, দমন ও দিউ এবং লাক্ষাদ্বীপ। এদের মধ্যে দিল্লি এবং পুডুচেরির আইনসভা রয়েছে, বাকিগুলির নেই।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রাজ্য থেকে আলাদা কীভাবে?
রাজ্যগুলি পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট হিসাবে বিবেচিত হয় তখনই, যখন তার একটি নির্বাচিত সরকার থাকে, যার আইন গঠনের নিজস্ব অধিকার থাকে। প্রশাসন চালানমোর জন্য এটির নিজস্ব আইনসভা রয়েছে এবং একজন মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। প্রশাসন চালানোর জন্য বিধানসভা রয়েছে। আর একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরাসরি কেন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

বিধানসভা ও বিনা বিধানসভার মধ্যে পার্থক্য কী?
দিল্লি ও পুদুচেরির মতো বিধানসভা-সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিজস্ব সংসদ এবং নির্বাচিত বিধায়ক রয়েছে। তবে এর বিধান পরিষদ বা উচ্চ ঘর নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি লেফটেন্যান্ট গভর্নর বা কেন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা হয়। চণ্ডীগড়ের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি বিধানসভামুক্ত। এখানে কোনও ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকেন না, কেউই প্রতিনিধিত্ব করেন না। সরাসরি কেন্দ্র পরিচালনা করে।

লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে পার্থক্য
জম্মু ও কাশ্মীরের পুনর্গঠন বিল আইনে পরিণত হওয়ার পরে, লাদাখ সরাসরি কেন্দ্রের আওতাধীন একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হবে এবং জম্মু ও কাশ্মীর আংশিক রাজ্য হিসেবে পরিগণিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, যথাযথ সময় হলে সরকার এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে।












Click it and Unblock the Notifications