পুলওয়ামা হামলার পিছনে জইশ জঙ্গিরা কীভাবে ষড়যন্ত্র রচনা করেছিল জেনে নিন
২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সবথেকে ভয়াবহ জঙ্গী হানার সাক্ষী থেকেছিল গোটা দেশ। তারপর কেটে গেছে এক বছর। ১৪ই ফেব্রুয়ারি তার বর্ষপূর্তিতে শহিদ বীর জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা গেছে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন মহলের বিশিষ্ট জনকে।

এই ভয়াবহ জঙ্গিহানা পিছনে ছিল পাকিস্তান মদত পুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী জয়শ-ই-মহম্মদ (জেএম)। বিস্ফোরণের পর গোটা ঘটনার দায় স্বীকার করে তাদের একটি ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যায়। মূল যড়যন্ত্রকারী তথা আত্মঘাতী বোমাড়ু হিসাবে নাম উঠে আসে আদিল আহমেদ দার নামে জয়শ-ই-মহম্মদের এক কমান্ডারের। সূত্রের খবর আদিল ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তার পরিবারকে ত্যাগ করে শেষ বারের জন্য বাড়ি ছাড়া হন।
গোয়েন্দা তদন্তে বারবার উঠে আসে এত বড় হামলার ছক দেশের ভিতরের লোকের সাহায্য ছাড়া কখনই করতে পারবে না সীমান্ত পারের কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী। সূত্রের খবর, এর জন্য প্রথমত ভারত বিরোধী তত্ত্বের মাধ্যনে মগড ধোলাই করা হয় কাশ্মীরের যুবকদের। তার মাধ্যমেই পরবর্তীকালে হামলার ছক কষে এই পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী। তারই ফসল এই আদিল আহমেদ দার।
গত বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটে নাগাদ শ্রীনগর-অনন্তনাগ হাইওয়ে ধরে জম্মু থেকে শ্রীনগর যাচ্ছিল ২৫০০ সেনা-জওয়ানের একটি কনভয়। সূত্রের খবর, আটাত্তরটি গাড়ির ওই বিশাল কনভয়ই ছিল মূলত জঙ্গিদের টার্গেট। পুলওয়ামার অবন্তীপুরার কাছে কনভয় পৌঁছতেই, উলটো দিক থেকে একটি প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি কনভয়ের কাছাকাছি চলে আসে। তারপরেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
সূত্রের খবর, প্রায় তিন মাস ধরে গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলার অনুশীলন করেছিল আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমেদ (২০)। তারপরই প্রায় সাড়ে তিনশো কেজি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম হয় সে। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে তার গ্রাম গান্ধীবাগ। বাবা গোলাম হাসানের ছোটখাটো ব্যবসা। একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে কলেজ ছেড়ে গ্রামেরই একটি কাঠচেরাই কলে কাজ করত আদিল।
পাড়া-প্রতিবেশীদের মতে জঙ্গি গোষ্ঠী গুলির প্রতি অনেক আগে থেকেই ছিল আকর্ষণ ছিল তাঁর। মার্চে বাড়ি ছাড়ার কয়েকদিন পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতে একে-৪৭ নিয়ে মৃত এক জঙ্গির নামে (ওয়াকাস কমান্ডার) আত্মপ্রকাশ করে আদিল।












Click it and Unblock the Notifications