কোথায় অবস্থিত লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল? ভারত-চিন বিবাদটা ঠিক কী নিয়ে, জানুন বিস্তারিত
কোথায় অবস্থিত লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল? ভারত-চিন বিবাদটা ঠিক কী নিয়ে, জানুন বিস্তারিত
ইন্দো-চিন সীমান্তে উত্তেজনা ২৭ দিন পরেও অব্যাহত। একদিকে যেমন লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে চিন সমারাস্ত্র মজুত করছে। তেমন ভাবেই ভারতও লাদাখ. সিকিম সহ ইন্দো-চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বাড়তি সেনা মোতায়েন করছে। ফলে উত্তেজনা কয়েকগুন বেড়েছে এলএসি-তে।

৩৪৮৮ কিলোমিটার লম্বা সীমান্ত
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা আদতে ভারত চিন সীমান্তের চিহ্নিতকারী অক্ষরেখা। ৩৪৮৮ কিলোমিটার এই লম্বা সীমান্তরেখা তিনটি সেক্টরে বিভাজিত। চিন অবশ্য এই রেখাকে ২০০০ কিলোমিটার লম্বা মানে। এই এলএসি-র তিনটি সেক্টরের পূর্ব ভাগ হল অরুণাচলপ্রদেশ থেকে সিকিম পর্যন্ত। মধ্য ভাগ হল উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলপ্রদেশ। এবং পশ্চিম ভাগ হল লাদাখ।

ম্যাকমোহন লাইনকে অনুসরণ করে এলএসি
এলএসি মূলত ১৯১৪ সালের ম্যাকমোহন লাইনকে অনুসরণ করে। এর জেরে পূর্বে অরুণাচলপ্রদেশের কয়েকটি এলাকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এদিকে চিন অরুণাচলকে নিজেদের দেশের অংশ বলে দাবি করে। তাদের ভাষায় অরুণাচল হল দক্ষিণ তিব্বত। লংজু ও আসাফিলা এলাকাতেও কয়েকটি জায়গা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতান্তর রয়েছে।

১৯৬২ সালে এলএসি বিবাদে প্রথম যুদ্ধ
অঞ্চলভিত্তিক অধিকারের জটিলতার জেরে উভয় দেশই ১৯৬২ সালের অক্টোবর মাসে অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তাতে তাদের সমস্যার কোনও নিষ্পত্তি হয়নি এবং এর অন্তত সাত দশক পরও সম্পর্কে সেই অস্বস্তি চলছে। সমস্যার সূত্রপাত ১৯৫৯ সালে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে একটি চিঠি লিখে এলএসি নিয়ে তাঁদের ঐতিহ্য অনুযায়ী সীমান্তের কথা বলেন চিনা প্রধানমন্ত্রী ঝু এনলাই। যদিও ভারত তা অস্বীকার করে।

এলএসি মেনে নেয় ভারত
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে চিনে প্রিমিয়ার লি পেং যখন ভারত সফরে আসেন, তখন পিভি নরসিমহা রাও এলএসি-র এই মত মেনে নেন। পরে ১৯৯৩ সালে বেজিংয়ে গিয়ে এই সংক্রান্ত চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন পিভি নরসিমহা রাও। তবে ভারতের পক্ষ থেকে কোনও দিনও এলএসি-র মানচিত্র অদলবদল করা হয়নি। এরপর ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন এই সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর প্রস্তাব করেন, তখন তা প্রত্যাখ্যান করেছিল বেজিং।

সম্প্রতি বিবাদের কারণ
গত বছর ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবরুক-শিয়ক-ডিবিও রোড তৈরি করেছিল ভারত। তা নিয়েই চিনের মূল আপত্তি৷ চিনের দাবি ছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে ভারতের দিকে পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ বন্ধ রাখা হোক৷ যা মেনে নিতে নারাজ ভারত৷

পরপর সংঘর্ষ ভারত ও চিনা সেনার
এদিকে কয়েকদিন আগেই লাদাখে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উড়তে দেখা গিয়েছিল চিনা হেলিকপ্টার। সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে ছুটে যায় ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান। এরপর ফের চিন ভারতের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অভিযোগ আনে। গত ৫ ও ৬ মে রাতে পূর্ব লাদাখের প্যাংগং সরোবরের কাছে ভারত ও চিনা সেনাবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষও হয়।

উত্তেজনার পারদ চড়ছে
এরপর ৯ মে উত্তর সিকিমে ফের ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ হয়। সিকিমের নাথু-লা সেক্টরে টহলদারি চালানোর সময় ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে অনু্প্রবেশ করে চিনের সেনা। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান কর্তব্যরত ভারতীয় সেনা জওয়ানরা। বচসা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। এর ফলে চিনের সাতজন সেনা ও চারজন ভারতীয় জওয়ান জখম হন।

সেনা বাড়াচ্ছে দুই পক্ষই
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের তরফেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এলএসি এলাকায় সেনার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সূত্রের খবর, লাদাখের কাছে এলএসি-তে জওয়ানদের সংখ্যা বাড়াচ্ছে চিন। গালওয়ান নালা এলাকায় শেষ দু'সপ্তাহে তারা ১০০টি টেন্ট তৈরি করেছে। লাদাখের দূরবুক গ্রামের মানুষরা বলছেন, প্রতি রাতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ট্রাক-গাড়ি তারা চিনা সীমান্তে যেতে দেখেছে।












Click it and Unblock the Notifications