লখিমপুর সংঘর্ষে মৃতদের পরিবারকে ৪৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা যোগী সরকারের
লখিমপুর খেরি এলাকায় সংঘর্ষে মৃতদের পরিবারকে ৪৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা যোগী সরকারের
কৃষক বিক্ষোভ ইস্যুতে কার্যত জ্বলতে শুরু করে দিয়েছে উত্তর প্রদেশে। সেখানের লখিমপুর খিরিতে বিক্ষোভরত ৪ কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার যোগী সরকার ঘোষণা করল ক্ষতিপূরণের অঙ্ক। উল্লেখ্য, এর আগে সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র ও যোগী রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্যের সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন এলাকার কৃষকরা। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল তিনটি কৃষি আইন্রে প্রতিবাদ। অভিযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয় দুই বিক্ষোভরত কৃষককে ধাক্কা মারলে তাঁদের সেখানেই মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই জ্বলে ওঠে উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরি। সেখানে মৃত কৃষকদের পরিবারকে ৪৫ লখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে যোগী সরকার।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৪৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফে। অন্যদিকে, ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে আহতদের পরিবারকে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, লখিমপুরে ঠিক কী ঘটেছে, তার খোঁজ নিতে এতটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা হবে। এছাড়াও মৃতদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যোগী সরকার। উল্লেখ্য, তিনটি কৃষি আইন ইস্যুতে ইতিমধ্যেই কৃষকরা প্রতিবাদে নেমে গত ২৬ নভেম্বর থেকে প্রবল বিক্ষোভে মেতে ওঠেন। তবে, ২০২১ সালের শুরুতেই কৃষি আন্দোলন ঘিরে রীতিমতো তুঙ্গে থাকে পারদ। তবে করোনা পরিস্থিতির মাঝে তা খানিকটা স্তিমিত হতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে কৃষি আন্দোলনের প্রভাব উত্তরপ্রদেশ পঞ্চায়েত নির্বাচনে খানিকটা হলেও টের পেয়েছে শাসকদল বিজেপি। এরপর ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার হাইভোল্টেজ নির্বাচন রয়েছে। সেই জায়গা থেকে লখিমপুর খেরির ঘটনা নিয়ে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায়।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের ঘটনা ঘিরে রীতিমতো তপ্ত গোটা দেশ। তপ্ত যোগীরাজ্যের রাজনীতি। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা অখিলেশ উত্তরপ্রদেশের বুকে নিজের বাড়িতে গৃহবন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, যোগীর পুলিশকে রাতভর বেগ পেতে হয়েছে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পদক্ষেপ নিয়ে। তাঁর ভোর রাত ৪ টে নাগাদ হরগাঁওতে আটক করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এদিকে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে লখিমপুরে পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের বচসা হয়। এদিকে, লখিমপুর খিরির সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে চার কৃষক সহ মোট আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। লখিমপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রবল হারে উত্তেজনা রয়েছে গোটা উত্তর প্রদেশ জুড়ে। এদিকে, সেরাজ্যের দুই তাবড় বিরোধী নেতা ও নেত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে রাখা নিয়ে সরব হয়েছে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে যোগী সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।












Click it and Unblock the Notifications