১ জানুয়ারি থেকে টিকার জন্য কীভাবে নাম নথিভুক্ত করতে পারবে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা?
শিশুদের করোনা টিকা
বিশ্ব তথা দেশ জুড়ে থাবা বসিয়েছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। ইতিমধ্যে ভারতের একাধিক রাজ্যে সামনে আসছে অমক্রন আক্রান্তের খবর। ভারতে একলাফে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৫৭৮ জন। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত সংখ্যা ১৫৬ জন ব্যক্তি। এর এই নয়া প্রজাতির করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হার অন্যান্য প্রজাতির থেকে অনেক বেশি বলেই মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে ওমিক্রন রেয়াত করছে না শিশুদেরও। এমনকি প্রথম বাংলায় একটি শিশু ওমিক্রন আক্রান্ত হয়েছে বলেও খবর এসেছিল। ওমিক্রন শিশু দেহে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাই শিশুদের রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপের পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পদক্ষেপ
আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই টিকা নেওয়ার জন্য দেশের করোনা অ্যাপ 'কো-উইন'-এ নাম নথিভুক্ত করতে পারবে দেশের কিশোর কিশোরীরা। প্রাথমিক স্তরে ১৫ থকে ১৮ বছর বয়সীরা ১ জানুয়ারী থেকে প্ল্যাটফর্মে টিকা দেওয়ার জন্য নিজেদের নাম নিবন্ধ করতে পারবে।

কো-উইন প্রধানের বিবৃতি
কো-উইন প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডাঃ আরএস শর্মা এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন: "১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা আগামী ১ জানুয়ারী ২০২২ থেকে কো-উইন অ্যাপে নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে সক্ষম হবে।" নিবন্ধনের জন্য একটি অতিরিক্ত আইডি কার্ড যুক্ত করা হয়েছে। কারণ অনেকের কাছেই কাছে আধার বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র নাও থাকতে পারে।

ভারতের করোনা গ্রাফ
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী দেশে এই মুহূর্তে মোট ওমিক্রন কেসের সংখ্যা ৫৭৮ জন। একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৬ জন। হিমাচলপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেও এবার ওমিক্রন থাবা বসিয়েছে। মধ্যপ্রদেশে একদিনেই ৯টি ওমিক্রন কেস সামনে এসেছে। দিল্লিতে একদিনে ৬৩ এবং মহারাষ্ট্রে একদিনে ৩৩টি ওমিক্রন কেস ধরা পড়েছে। এরাজ্যে মোট ওমিক্রন আক্রান্ত ১৪১। এদিকে সর্বোচ্চ ওমিক্রন সংক্রমণের তালিকায় মহারাষ্ট্রকে পিছনে ফেলল দিল্লি। দিল্লিতে মোট ওমিক্রন কেসের সংখ্যা ১৪২। কেরলে ৫৭, গুজরাতে ৪৯, রাজস্থানে ৪৩, তেলেঙ্গানায় ৪১, তামিলনাড়ুতে ৩৪ এবং কর্ণাটকে ৩১টি ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।

'কোউইন' কী?
ভারতে করোনার ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অ্যাপ হল কোউইন। এই অ্যাপের মাধ্যমে এসএমএস, আধার এবং ডিজিলকারের মতো ব্যবস্থাপনার সাহায্যে গোটা টিকাকরণ প্রক্রিয়াটি কার্যকর করা হয়। এই অ্যাপের সাহায্যে টিকাকরণে জড়িত স্বাস্থ্যকর্মী এবং যিনি টিকা নিতে ইচ্ছুক- এই দুজনের মোবাইলেই একটি এসএমএস যায়। টিকাকরণের প্রতিটি ধাপই তাতে স্পষ্ট করে উল্লেখিত থাকে। টিকাকরণের পর তার শংসাপত্রটিও কোউইন অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়। কিউআর বারকোড সম্বলিত ওই শংসাপত্রটি চাইলে সরকারের ক্লাউডবেসড স্টোরেজ অ্যাপ ডিজিলকারের মাধ্যমে সর্বদা মোবাইলে রাখা যায়, যাতে ইচ্ছে মতো তা ডাউনলোড করা যায়।

'কোউইন' অ্যাপ-এ নাম নথিভুক্ত
কোউইন অ্যাপটিতে নাম নথিভুক্তির জন্য তিনটি 'অপশন' থাকে। ১) নিজে থেকে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা। ২) কোনও আধিকারিকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন। ৩) একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তির রেজিস্ট্রেশন। সেখানে নিজের নাম ফোন নম্বর ও আধার কার্ড বা পরিচয় পত্রের আই ডি নম্বর দিয়ে নাম নথিভুক্ত করা হয়। তার পর নিকটবর্তী কোথায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। কবে টিকা পাবেন, স্লট খালি আছে কিনা সব বিস্তারিত জানা যায়।












Click it and Unblock the Notifications