মৃত্যুপুরী কোঝিকোড়! ম্যাঙ্গালোরের দুর্ঘটনার পরে ঝুঁকিপূর্ণ রানওয়ে নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ যেন প্রায় এক দশক আগে ম্যাঙ্গালোর বিমনা দুর্ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। শুক্রবার রাতের এয়ার ইণ্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার হাত ধরে যেন সেই স্মৃতিই ফের ফিরল কোঝিকোড়ে। ২০১০ সালের মে মাসেও ম্যাঙ্গালোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় কোঝিকোড়ের মতো রানওয়ে পার করে খাদে পড়েছিল একটি এয়ার ইণ্ডিয়ার বিমান। সেইবারও ভিলেনের ভূমিকায় ছিল টেবিলটপ বিমানবন্দর।

ওই ঘটনার পরেই অসামরিক বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মোহন রাঙ্গনাথন ২০১১ সালের জুন মাসে কোঝিকোড় বিমানবন্দরের পরিকাঠামো নিয়ে সতর্কও করেন। একইসাথে তৎকালীন সিভিল এভিয়েশন সেক্রেটারি নাসিম জায়েদীর কাছেও এই বিমান বন্দরের টেবিলটপ রানওয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। রাঙ্গানাথন সেই সময় সিভিল এভিয়েশন সেফটি অ্যাডভাইজরি কমিটির (ক্যাস্যাক) অপারেশন গ্রুপের সদস্য ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্যাপ্টেন মোহন বলেন, “২০১০ সালে ম্যাঙ্গালোর বিমান দুর্ঘটনার পর কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ে কে অনিরাপদ বলে সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু সে বিষয়টিকে পাত্তাই দেওয়া হয়নি। রানওয়েটি বেশ ঢালু। শেষে একাধিক বাফার জোনও রয়েছে।“ এদিকে বর্তমানে এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই দুটি তদন্তকারী দল গঠন করেছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক।
শুক্রবার সন্ধ্যে ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ কোঝিকোড় বন্দরে অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার এক্স ১৩৪৪ বিমান। অবতরণের সময় পিছলে গিয়ে দু’টুকরো হয়ে যায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। ১৯১ যাত্রীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ১৮ জন। যার মধ্যে রয়েছেন বিমানের দুই চালকও। এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেই কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ের নিরাপত্তা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়েটি প্রধান সমস্যার কারণ। রানওয়ের একাধিক জায়গায় রয়েছে ফাটলের চিহ্নও। পাশাপাশি শেষ বাগটি বেশ ঢালু। শেষ মাথায় রয়েছে প্রায় ২০০ মিটার গভীর খাদ। যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাথমিক অবস্থায় সেখানে পৌঁছানোও দুষ্কর বলে মনে করছেন তারা। যেখানে সাধারণ রানওয়ের শেষ প্রান্তের দৈর্ঘ্য থাকে ২৪০ মিটারের আশেপাশে। কিন্তু কোঝিকোড় বিমানবন্দরের শেষ প্রান্তের দৈর্ঘ্য মাত্র ৯০ মিটার। এছাড়া উভয় পাশের জায়গাও কম বলে বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। বৃষ্টি হলেই রানওয়ের একাধিক জায়গায় জল জমে যেও দেখা যায়।












Click it and Unblock the Notifications