কেরলের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগের নির্দেশ কেরলের রাজ্যপালের, তীব্র সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর
কেরলের রাজ্যপালের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর
কেরলের রাজপালের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন। কেরলের রাজ্যপাল রবিবার এক বিবৃতি জারি করে রাজ্যের নটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সোমবারের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনা কেরল হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। সোমবার এই মামলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী রাজ্যপালের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চাইছেন রাজ্যপাল।

কী নির্দেশ দেন কেরলের রাজ্যপাল
রবিবার কেরলের রাজভবন এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেরালার ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। রবিবার কেরলের রাজ্যপাল আরিফ এম খানের বিজ্ঞপ্তি জারির পরেই তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। আরিফ এম খান উপাচর্য পদের অপব্যহার করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, আরিফ এম খান আরএসএসের হয়ে কাজ করছেন। তিনি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ উপাচর্যরা
কেরলের রাজভবনের তরফে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান কেরলের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যরা। কেরলের রাজ্যপাল আরিফ এম খানের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। হাইকোর্টে সোমবার এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি গ্রহণ করা হবে। ইউনিভার্সিটি অফ কেরল, মহাত্মা গান্ধী ইউনিভার্সিটি, কোচি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কেরল ইউনিভার্সিটি অফ ফিশারি অ্যান্ড ওসেন স্টাডিজ, কন্নুর ইউনিভার্সিটি, এপিজে আবদুল কালাম টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটি, শ্রী শঙ্করাচর্য ইউনিভার্সিটি অফ সংস্কৃত, ইউনিভার্সিটি অফ কালিকুট, থুনছত এজুথাচন মালায়লাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের তরফে এপিজে আবদুল কালাম টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটি উপাচর্যের নিয়ো অবৈধ বলে ঘোষণার পরেই রাজ্যপালের তরফে থেকে এই নির্দেশ আসে।

কেরল প্রশাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
রাজ্যপালের এই নির্দেশের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কেরল প্রশাসন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন বলেন, রাজ্যপাল আচার্যপদের অপব্যবহার করছেন। এই নির্দেশ অগতান্ত্রিক। উপাচর্যদের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ। পাশাপাশি তিনি বলেন, রাজ্যপালের কাজ সরকারের বিরোধিতা করা নয়। রাজ্যপালের কাজ হল সংবিধান অক্ষুন্ন রাখতে সরকারকে সাহায্য করা। তিনি আরএসএসের হয়ে কাজ করছেন। এর আগে কেরলের আর এক মন্ত্রী বিন্দু রাজ্যপালের নির্দেশের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নয়জন উপাচর্যকে রাজ্যপাল নিয়োগ করেছেন। যদি নিয়োগ অবৈধ হয়, সেক্ষেত্রে দায় রাজ্যপাল এড়াতে পারেন না।












Click it and Unblock the Notifications