বাংলার পর কেরল, আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে সরাতে অর্ডিন্যান্সের সিদ্ধান্ত বিজয়ন সরকারের
বিশ্ববিদ্যালগুলির আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে সরাতে অর্ডিন্যান্স আনতে চলেছে কেরলের মন্ত্রিসভা
কেরলের মন্ত্রিসভা রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর পদ থেকে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানকে সরাতে একটি অর্ডিন্যান্স আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বার বার রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। সেখান থেকেই বুধবার কেরল মন্ত্রিসভা আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে সরাতে অর্ডিন্যান্স নিয়েছে। এর আগে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যপালকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদ থেকে সরাতে অর্ডিন্যান্স নিয়ে আসে।

কেরল সরকারের অর্ডিন্যান্সের সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদ থেকে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানকে সরাতে কেরলের মন্ত্রিসভা একটি অর্ডিন্যান্স আনতে চলেছে। কেরল প্রশাসন কোনও শিক্ষাবিদ বা মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে নিযুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে কেরলের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বা চ্যান্সের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। গত সপ্তাহে কেরলের সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দন বলেন, রাজ্যপালের সঙ্গে লড়াইয়ে সরকার যে কোনও জায়গায় যেতে প্রস্তুত। কেরল রাজ্য সরকারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যপাল বিজেপির হাতের পুতুল। রাজ্যপাল আরএসএস নীতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করছে।

কেরলে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত
প্রসঙ্গত,চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য পদ থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডঃ গোপীনাথ রবীন্দ্রনকে পুনর্নিয়োগের আবেদন করা হয়। তারপরেই চ্যান্সেলর পদ থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। সেই সময় কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন আশ্বস্ত করেছিলেন, তাঁর কাছ থেকে আচার্যের পদ কেড়ে নেওয়া হবে না। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে রাজ্যসরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। এরপরেই রাজ্যপাল পুনরায় দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত যখন, সুপ্রিম কোর্টের তরফে এপিজে আবদুল কালাম টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটি উপাচর্যের নিয়োগ অবৈধ বলে ঘোষণার করে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরেই কেরলের রাজ্যপাল রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ২৪ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। কেরলের রাজভবনের তরফে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান কেরলের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যরা। কেরলের রাজ্যপাল আরিফ এম খানের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।












Click it and Unblock the Notifications