জাতীয় রাজনীতিতে কেজরিওয়ালের গ্রহণযোগ্যতা কি আপ-বিজেপি দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ! প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের
জাতীয় রাজনীতিতে কেজরিওয়ালের গ্রহণযোগ্যতা কি আপ-বিজেপি দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ! প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের
২০১৪ সালে আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ৪৯ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছিলেন। পদত্যাগের পর দিল্লিতে তাঁর ছোট্ট পার্টি অফিসের সামনে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে দিল্লিতে সরকার গঠন একটা কৌশল ছিল মাত্র। তিনি জানতেন, কংগ্রেসের সঙ্গে আপ কখনই জোট বাঁধতে পারে না। তিনিও এই জোটের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু ১০ বছর পর পরিস্থিতিটা কিন্তু অনেকটাই আলাদা।
বলা যেতে পারে রাজনৈতিক জীবনের পদচলা ২০১৪ সাল থেকেই শুরু হয়। তবে কেজরিওয়ালের ২০১৪ সালের সেই আবেগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। অনেকটাই সংযত অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি দেশ জুড়ে প্রার্থী দিয়েছিলেন। দিল্লির সাতটি আসনেও প্রার্থী দিয়েছিলেন। তবে ব্যর্থ হয়েছিল আপ। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির সাতটি আসন থেকে আপ একটিতেও জয় লাভ করতে পারেনি। তবে ২০১৫ সালে দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর ব্যাপক জয় অন্য একটি মাত্রা এনে দিয়েছিল। কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রশাসক হোক বা রাজনৈতিক জীবন, তিনি অনেক পরিণত হয়েছেন। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি ফের একবার ব্যর্থ হন। ২০১৪ সালের মতো ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তিনি দিল্লি থেকে একটি আসনেও জয়ী হতে পারেননি। ২০২০ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয় আপ। এরপর ২০২১ সালের পঞ্জাবের বিধানসভা দখল করে আপ।

উচ্চাকাঙ্খী অরবিন্দ কেজরিওয়াল
স্বীকার করুন বা না করুন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যে একদিন দেশ শাসন করতে চান, সারা দেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে ছড়িয়ে দিতে চান, তা একাধিকবাক প্রমাণ হয়েছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করেছেন বারাণসী কেন্দ্র থেকে। তবে বর্তমানে কেজরিওয়াল পায়ের তলার মাটি শক্ত করেই দেশ শাসনের দিকে এগোতে চাইছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আপ ২০২২ সালে পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পঞ্জাবে বিধানসভা দখল করে আপ। সামনেই গুজরাত ও হিমাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে আপ নিজের শক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে।

মোদী ও কেজরিওয়ালের লড়াই
আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লি মডেলকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে লড়াই করছেন। দিল্লির নির্বাচনের আগে তিনি একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবার কর সম্পর্কেও একাধিক প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তিনি গুজরাতের নির্বাচনী প্রচারে বিনামূল্যে একাধিক পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছেন। বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মোদী ও কেজরিওয়ালের সঙ্গে লড়াই এখন জাতীয় রাজনীতির চর্চার বিষয়। মোদী বার বার বিনামূল্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, কোনও রাজ্য যদি বিনামূল্যে প্রতিশ্রুতি দেন, সেক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়বে। মোদীর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি মোদীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আদালতে গিয়েছেন।

মোদী কেজরিওয়ালের মিল
অরবিন্দ কেজরিওয়ালও গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বেশ কিছু মিল দেখতে পাওয়া যায়। গুজরাতের বেশ কয়েকবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক করেন। কেজরিওয়ালও বেশ কয়েকবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখনও অনেক দেরি রয়েছে। তবে তিনি এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে যে শুরু করে দিয়েছেন, তার প্রমাণ একাধিক ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। বার বার তিনি মোদীকে আক্রমণ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার। যত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন কাছে আসছে, আক্রমণের তেজ যেন ততই বাড়তে শুরু করেছে। তবে মোদী হিন্দুত্ববাদী, ধর্মকে হাতিয়ার করে এগিয়েছেন। এক্ষেত্রে কেজরিওয়ালের হাতিয়ার তাঁর জনদরদী কাজ। একাধিক শিল্পপতি মোদীর বিশেষ ঘনিষ্ঠ বলে গুজব বলে শোনা গেলেও এখনও পর্যন্ত কেজরিওয়ালের নামে সেভাবে কিছু শোনা যায়নি।

লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি আপের
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কেজরিওয়াল প্রার্থী হবেন কি না সময় বলবে। তবে রাজনীতিতে সব সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে আপের স্লোগান ইতিমধ্যে কেজরিওয়াল প্রকাশ্যে এনেছেন। 'মেক ইন্ডিয়া নম্বর ওয়ান'। ১৭ অগস্ট টুইটারে কেজরিওয়াল দেশজুড়ে বিনামূল্যে তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি দেন। কেজরিওয়াল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি দিলে সামনে আসে দিল্লি মডেল। যা সত্যি আকর্ষণীয়। টুইটারে কেজরিওয়াল বলেন, 'আমাদের দেশকে আবার বিশ্বের এক নম্বর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। আমাদের ভারতকে মহান করতে হবে। আমরা মেক ইন্ডিয়া ওয়ান নামে জাতীয় একটি মিশন শুরু করেছি। যেখানে দেশের ১৩০ কোটি নাগরিককে যুক্ত করতে চাই।'












Click it and Unblock the Notifications