বাতিল ৩৭০ ধারা, উচ্ছ্বসিত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে অকাল দিওয়ালি
২৯ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে সুবিচার পেয়েছেন তাঁরা। এমনটাই মনে করেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ার আনন্দ রাজধানী দিল্লিতে নাচ-গানের মাধ্যমে উদযাপন করেছেন তাঁরা।
২৯ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে সুবিচার পেয়েছেন তাঁরা। এমনটাই মনে করেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ার আনন্দ রাজধানী দিল্লিতে নাচ-গানের মাধ্যমে উদযাপন করেছেন তাঁরা। কেন্দ্রের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত তাঁদের জীবনে অকাল দিওয়ালি এনেছে বলেও দাবি ২৯ বছর আগে দিল্লিতে এসে আশ্রয় নেওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিতদের।

নব্বইয়ের কঠিন দশক
ডোগরা শাসনের (১৮৪৬ থেকে ১৯৪৭) সময় থেকে কাশ্মীরে প্রভাবশালী পণ্ডিতরা ভূস্বর্গে ধীরে ধীরে সংখ্যালঘু হতে শুরু করেন। ১৯৮১ সালে কাশ্মীরের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশে এসে পৌঁছন তাঁরা। ১৯৯০-র কিছু আগে থেকে অর্থাৎ ভূস্বর্গে জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়। বেছে বেছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদেরই নিশানা বানানো হচ্ছিল। প্রাণ বাঁচাতে ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একটি দল কাশ্মীর ছাড়েন। যে প্রক্রিয়া চলে ১৯৯৫ পর্যন্ত।

আশ্রয়
সন্ত্রাসের ভয়ে রাতারাতি কাশ্মীর ছাড়তে বাধ্য হওয়া লাখো পণ্ডিতদের মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রে আশ্রয় দেন শিবসেনা নেতা বাল ঠাকরে। কাশ্মীরি পণ্ডিতরা ছড়িয়ে পড়েন দেশের অন্যান্য প্রান্তেও। তাঁদের একটি বড় দল রাজধানী দিল্লিতে আশ্রয় নেয়। সেই পণ্ডিতদের নিয়ে কাশ্মীরি সমিতি তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৯ বছর পর সেখানেই সুবিচার পাওয়ার আনন্দে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা।

৩৭০ ধারা
ভারতের সংবিধান স্বীকৃত অস্থায়ী এই ধারায় জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ স্বশাসিত অধিকার দেওয়া হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, যোগাযোগ ও বৈদেশিক নীতি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের জন্য কেন্দ্রকে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের সম্মতি নিতে হবে।

৩৭০ ধারার কুফল
কাশ্মীরি পণ্ডিতরা মনে করেন, ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ৩৭০ ধারার জন্যই পালিয়ে আসতে হয় তাঁদের। কারণ এই ধারার অপব্যবহার করে তৎকালীন রাজ্য সরকার না নিজে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিরাপত্তা দিয়েছে, না কেন্দ্রকে এ ব্যাপারে নাক গলাতে দিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বেজায় খুশি হয়েছেন নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীর থেকে পালিয়ে আসা পণ্ডিতরা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও তাঁদের সেই পুরবো ভিটেতে ফিরে যেতে চান।












Click it and Unblock the Notifications