কাশ্মীরে তিন বিজেপি নেতার হত্যার নেপথ্যে কারা? ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পর্দা উঠল রহস্য থেকে
বৃহস্পতিবার এক জঙ্গিদের নির্মম হামলার জেরে মৃত্যু হয় কাশ্মীরের তিন বিজেপি যুব মোর্চা কার্যকর্তার। এই হামলার তদন্তে নেমেই নেপথ্যে থাকা পাকিস্তানি যোগের উপর থেকে পর্দা উঠাল পুলিশ। কাশ্মীর জোন পুলিশের দাবি, লস্কর-ই-তৈবাই এই হামলা চালিয়েছিল কুলগামে। এই তদন্তের বিষয়ে পুলিশি অগ্রগতি সমপ্রর্কে জানাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেলিনে আইজি বিজয় কুমার।

লস্কর ও স্থানীয় কয়েকজন জঙ্গি মিলে হামলা চালানো হয়
লস্কর-ই-তইবা ও স্থানীয় কয়েকজন জঙ্গি মিলে তাঁদের হত্যা করেছে। তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানালেন কাশ্মীর পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনেরাল বিজয় কুমার। গতরাতে যেখানে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছিল আজ সেই জায়গাটি পরিদর্শনে গেছিলেন বিজয় কুমার। পাশাপাশি তদন্তের জন্য আরও কয়েকটি এলাকাও ঘুরে দেখেন তিনি। হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের মদত থাকতে পারে বলে তাঁর অনুমান।

দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিসটেন্স ফ্রন্ট
কাশ্মীর রেঞ্জের আইজি বিজয় কুমার এই বিষয়ে বলেন, 'এই হামলা চালিয়ে বিজেপি কর্মীদের হত্যার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিসটেন্স ফ্রন্ট। এই সংগঠন আদতে পাকিস্তান মতদপুষ্ট লস্ক-ই-তৈবার একটি শাখা বলে আমাদের তদন্তে উঠে এসেছে। এদিকে এই সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরে মৃত্যু মিছিলের হুমকিও দিয়েছে।'

'ঘটনাস্থান পরিদর্শন এবং তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
তিনি আরও বলেন, 'ঘটনাস্থান পরিদর্শন এবং প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পর জানা গেছে জঙ্গিরা যে গাড়িতে করে এসেছিল সেটি আলতাফ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির। বিজেপি নেতা-কর্মীরা যে গাড়িটিতে করে যাচ্ছিলেন, জঙ্গিরা তাদের গাড়িটি সেটির পাশে নিয়ে আসে। তারপর এলোপাথাড়ি গুলি করতে শুরু করে এবং ঘটনাস্থান থেকে পালিয়ে যায়। জঙ্গিরা যে গাড়িটিতে করে এসেছিল, সেটিকে আজ আটক করা হয়েছে। গাড়িটিকে খতিয়ে দেখতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানো হয়েছে।'

জঙ্গিদের হাতে মৃত্যু তিন বিজেপি নেতার
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় যুব মোর্চার নেতা সহ তিনজনের। জঙ্গিদের গুলিতে ঘটনাস্থানেই মৃত্যু হয় একজনের। বাকিদের তড়িঘড়ি কাজিগুন্দ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন কুলগাম জেলার যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক ফিদা হুসেন ইটু।

মৃত নেতাদের পরিবারকে সবরকমের সাহায্যের বার্তা
মূলত ফিদাকে হত্যা করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা পুলিশের। তাঁকে যেই সময় গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা, সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন হারুন বেগ ও উমর হাজম নামে আরও দুই বিজেপি কর্মী। জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁদেরও। এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা মৃত নেতাদের পরিবারকে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

শোকজ্ঞাপন মোদীর
কুলগামের যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক ফিদা হুসেন ইটু এবং উমর হাজম, দু'জনের বাড়ি কাজিগুন্দের ওয়াই কে পোরা এলাকায়। হারুন বেগের বাড়ি সোপাত এলাকায়। আজ তাঁদের মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, ওমর আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি এই হত্যাকাণ্ডের কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications