কর্নাটক জোড়া মুখ্যমন্ত্রী পাবে এবার! সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার দ্বন্দ্ব এড়াতে কোন পথে কংগ্রেস
কর্নাটক কি এবার দুই মুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে? রাজস্থানের মতো পরিস্থিতি এড়াতে এমন প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও প্রদশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারের দ্বন্দ্ব এড়াতে কুর্সিতে উভয়কেই বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
বিজেপিকে হারিয়ে সম্প্রতি কর্নাটকের ক্ষমতা দখল করেছে কংগ্রেস। বিপুল বিজয়ের পর কংগ্রেস এখন মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে ধন্দে পড়েছে। কে হবেন কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে ধন্দ কাটাতে বিধায়ক ও পর্যটকদের নিয়ে এক প্রস্থ বৈঠকের পর কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কোর্টে বল ঠেলা হয়েছে।

কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে মূল লড়াই এখন পছন্দের দুই প্রার্থী সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের মধ্যে। কংগ্রেস ভাবছে সিদ্দারামাইয়া এবং ডি কে শিবকুমারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেষ ফলে প্রথম আড়াই বছর একজন, অন্যজন পরের আড়াই বছর মূখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।
কংগ্রেস মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেস উভয় নেতাকে আড়াই বছর করে বসাতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী করার নয়া ফর্মুলা বিবেচনা করতে পারে কংগ্রেস, এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে নয়া ভাবনায়। এই কথা চিন্তা করেই বল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুনের কোর্টে পাঠানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ডিকে শিবকুমার গান্ধী পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সৈনিক। তারপর শিবকুমার আটবারের বিধায়ক। কংগ্রেসের শক্তিশালী গড় ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের মুখ তিনি। তিনি কনকাপুরায় তাঁর জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা রাজস্ব মন্ত্রী আর অশোককে পরাজিত করেছেন তিনি।
১৯৬২-র ১৫ মে কনকাপুরায় ডোডদালাহল্লি কেম্পে গৌড়া এবং গৌরাম্মার কাছে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিবকুমার শুরু থেকেই কট্টর কংগ্রেসী। তিনি ১৯৮০ দশকে একজন ছাত্র নেতা হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে কংগ্রেস দলের পদে উন্নীত হন। তিনি ১৯৮৯ সালে সাথানুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তার প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৭।

অন্যদিকে সিদ্দারামাইয়া ৭৫ বছর বয়সী সিদ্দারামাইয়া কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদের সবথেকে বড়ো দাবিদার। তিনি ২০০৬ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার জেডিএস থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টিতে অর্থাৎ কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে তিনি বিধানসভায় আত্মপ্রকাশ করেন লোকদল পার্টির টিকিটে।
সিদ্দারামাইয়া চামুণ্ডেশ্বরী থেকে নির্বাচিত হন। তিনি পাঁচবার জয়ী হয়েছেন এই আসন থেকে তিনবার তিনি পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছেন। কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১৯৮৯ এবং ১৯৯৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের স্বাদ পান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি কেপিসিসি প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
১৯৪৮ সালের ১২ অগাস্ট মাইসুরু জেলার সিদ্দারমানাহুন্ডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সিদ্দারামাইয়া। মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করার পরে একই প্রতিষ্ঠানে আইন অধ্যয়ন করেন। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল তিনি কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করেন।












Click it and Unblock the Notifications