কর্নাটক নির্বাচনের ফলাফল ২০২৩: নন্দিনীর মিষ্টি ছাড়া জয় উদযাপন হয় না! বিজেপিকে খোঁচা কংগ্রেসের
দক্ষিণের একটি মাত্র রাজ্যে বিজেপি ছিল। তাও তারা কংগ্রেসের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে। আর সেই জয় কংগ্রেস উদযাপন করল বেঙ্গালুরুতে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে। নন্দিনীর মিষ্টি দিয়েই জয় উদযাপন করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, ডিকে শিবকুমার, রণদীপ সুরজেওয়ালা এবং কেসি বেনুগোপালের মতো নেতারা।
কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের অফিসে জয় উদযাপন করতে গিয়ে রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন নন্দিনী ছাড়া কর্নাটকে কিছুই সম্পূর্ণ হতে পারে না। নন্দিনী এখন সব কন্নডিগার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। সুরজেওয়ালা নন্দিনীর একটি মিষ্টির বাক্স দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিকে বাড়িয়ে দেন। এছাড়াও তিনি মিষ্টি বিতরণ করেন সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমারকেও।

প্রসঙ্গত কর্নাটকের নির্বাচনী প্রচারে ইস্যু হয়েছিল কর্নাটকের দুধের ব্র্যান্ড বলে পরিচিত নন্দিনীও। কেননা সেই সময় গুজরাতের দুগ্ধ সমবায় ব্র্যান্ড আমূল বেঙ্গালুরুতে অনলাইনে দুধ ও দই সরবরাহের কথা জানায়। যা নিয়ে তীব্র বিতর্কও শুরু হয়। রাজ্যে যাঁরা নন্দিনীর সঙ্গে যুক্ত তাঁরা এই বিষয়টিকে ভাল ভাবে নেয়নি। কংগ্রেসও বিষয়টিকে ইস্যু করে।
কর্নাটকে বিরোধী আসনে থাকা কংগ্রেস ও জেডিএস বিজেপিকে নিশানা করে বলে, তারাই আমূলকে কর্নাটকে প্রবেশ করাচ্ছে, যা রাজ্যের নিজেস্ব ব্র্যান্ড নন্দিনীর জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে. বিরোধীরা এই বিষয়টিকে কর্নাটক মিল্ক ফেডারেশনকে পদদলিত করার চেষ্টা হিসেবেই প্রচার করে। তারা অভিযোগ করে এটা করা হচ্ছে আমূলের সঙ্গে নন্দিনীকে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য।

যদিও বিজেপি সেই সময় বিরোধীদের অভিযোগের জবব দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজেপির আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য বলেন, আমূল এবং নন্দিনীকে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আর আমূল কর্নাটকেও ঢুকবে না।
পরবর্তী সময়ে রাজ্যে প্রচারে এসে রাহুল গান্ধীর নন্দিনী ব্র্যান্ডের আইসক্রিম খাওয়ার ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, রাহুল দান্ধী কর্নাটক মিল্ক ফেডারেশনের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড নন্দিনীকে সেরা বলেও বর্ণনা করেন।

সনিয়া গান্ধীও রাজ্যে প্রচারে গিয়ে বিষয়টির কথা উল্লেখ করছিলেন। তিনি প্রচারে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন বিজেপি লক্ষ লক্ষ দুধ উৎপাদনকারীর স্বার্থ উপেক্ষা করে নন্দিনীর মতো ভাল প্রতিষ্ঠানকে লুট করার ষড়যন্ত্র করছে? বিজেপি প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
বিজেপি রাজ্যে ১১৬ থেকে নেমে গিয়েছে ৬৫ তে। আর কংগ্রেসের আসন বেড়েছে হয়েছে ১৩৬। যা একটা রেকর্ড। কংগ্রেসের এই জয়ের পিছনে নন্দিনী বিতর্কও কাজ করেছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।












Click it and Unblock the Notifications