Karnataka Election Results 2023: ভোক্কালিগারা গৌড়াদেরই সমর্থক তিন দশক! একনজরে কর্নাটকের ইতিহাস
কর্নাটকে ভোক্কালিগাদের সমর্থন গৌড়াদের দিকেই থেকেছে বেশিরভাগ সময়। অন্তত আড়াই-তিন দশক ধরে দেবোগৌড়াদের সঙ্গেই রয়েছেন ভোক্কলিগারা। এবার কি সেই সমর্থনে ভাগ বসাতে পারবে কংগ্রেস? সেই প্রশ্নের জবাব পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও একটা দিন।
কিন্তু একটি প্রশ্ন বরাবরের জন্যই থেকে যায়, কেন ভোক্কালিগাদের গৌড়া-প্রীতি, আর কেনই বা তাঁরা কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়ে মাঝেমধ্যে, তা জানতে নজর দিতে হবে কর্নাটকের ইতিহাসে। এর প্রেক্ষাপটে রয়েছে পুরনো অনেক কাহিনি। সেখান থেকেই খানিক নির্যাস নিয়ে ঢুঁ দেওয়া ভোক্কালিগাদের মনের মণিকোঠায়!

ভোক্কালিগারা কর্নাটকের দ্বিতীয় শক্তিশালী জাতি। ১৯৯৬ সালের ১ জুন ছিল ভোক্কালিগাদের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এইচডি দেবগৌড়া সেদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। একটি উপ-আঞ্চলিক জাতির নেতা হিসেবে তিনি দেশের শীর্ষ পদে বিরাজ করেছিলেন।
তারপর থেকেই দেখা গিয়েছে দেবেগৌড়া ভোক্কালিগাদের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছেন। এখনও তাঁরাই কর্নাটকের ভোক্কালিগা ভোটব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করেন। এই ভোক্কালিগারাই গৌড়াদের পরাজিত করে মাত্র তিন বছর পরেই আরেক ভোক্কালিগা এস এম কৃষ্ণকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছিল।
কিন্তু তারপরও দেবেগৌড়া প্রায় ৩০ বছর ধরে ভোক্কালিগাদেরে শীর্ষ নেতা হিসেবে রয়ে গিয়েছেন। কর্নাটকের রাজনীতিতে তাঁরা ভোক্কালিগাদের প্রতিনিধিত্ব করে গিয়েছেন। স্বাধীনোত্তর পর্বে কর্নাটকে মূলত দুটি জাতির আধিপত্য দেখা গিয়েছে। তারা হল লিঙ্গায়েত এবং ভোক্কালিগা।

দেখা গিয়েছে, পালা করে কর্নাটকে রাজ্য শাসন করছে লিঙ্গায়েত বা ভোক্কালিগারা। ভোক্কালিগারা আক্ষরিক অর্থে কৃষক সম্প্রদায়। মহীশূর অঞ্চলকেন্দ্রিক জাতি ভোক্কালিগা। এই এলাকার তিন-চারটি জেলায় বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে ভোক্কালিগাদের। তখন ভোক্কালিগারাই ছিল প্রধান সম্প্রদায়।
১০০ শতাংশ কৃষিপ্রধান সম্প্রদায়ের কয়েকজন মধ্যযুগীয় সর্দার ছিলেন। বেঙ্গালুরুর প্রতিষ্ঠাতা কেম্পে গৌড়া তাঁদের মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত। ব্রিটিশদের অধীনে মহীশূর রাজাদের শাসনকালে ভোক্কালিগারা কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সাক্ষরতার স্তর এবং সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণও ছিল।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভোক্কালিগারা কর্নাটকের সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনের প্রধান ধারক হয়ে ওঠে। ১৯৫৬ সালে ভোক্কালিগারা পুরানো মহীশূর রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করত। রাজ্যের পুনর্গঠনে তারা লিঙ্গায়েতদের আধিপত্য স্বীকার করতে বাধ্য করে। পরে লিঙ্গায়েতরা উত্তর কর্নাটকের একটি প্রভাবশালী জাতি হয়ে ওঠে।

১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে কর্নাটকের ভোক্কালিগা জাতির শীর্ষ নেতারা সকলেই কংগ্রেস নেতা ছিলেন। তাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই কন্নড়-ভাষী অঞ্চলকে একীভূত করার বিষয়ে খুব বেশি উৎসাহী ছিলেন না। এর ফলে সেই জায়গাটা নিতে শুরু করে লিঙ্গায়েতরা।
কর্নাটকের পুনর্গঠনে মুম্বই কর্নাটক ও হায়দরাবাদ কর্নাটক যুক্ত হয়। পুরানো মহীশূর রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেঙ্গাল হনুমান্থাইয়া সব রাজ্য একীকরণের পক্ষে ছিলেন। এর পর ভোক্কালিগারা আধিপত্য হারাতে থাকে। লিঙ্গায়েতদের আধিপত্যের পথ প্রশস্ত হতে শুরু করে।
রাজ্যের দুটি সবচেয়ে শক্তিশালী জাতির মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই। ১৯৫৬ সালে কর্নাটক রাজ্য হওয়ার জন্মলগ্ন থেকেই লড়াই ছিল লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগাদের। কেঙ্গাল হনুমান্থাইয়া ক্ষমতা হারান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন একজন লিঙ্গায়ত নেতা এস নিজালিঙ্গপ্পা। নিউ মহীশূর রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
ভোক্কালিগারা লিঙ্গায়তদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি হারানোর পর তা পুনরুদ্ধার করতে ৩৮ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে এইচডি দেবগৌড়া সংযুক্ত কর্নাটকের প্রথম ভোক্কালিগা মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে চার লিঙ্গায়েত মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তাঁরা হলেন, এস নিজলিঙ্গপ্পা, বিডি জাট্টি, এসআর কাঁথি এবং বীরেন্দ্র পাতিল।

১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে একজন ক্ষত্রিয় ডি দেবরাজ উরস এবং একজন ব্রাহ্মণ আর গুন্ডুরাও লিঙ্গায়ত সমর্থন ছাড়া রাজ্য শাসন করেছিলেন। রামকৃষ্ণ হেগডে ১৯৮৩ সালে কর্ণাটকের প্রথম অ-কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি একজন ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও মুকুটহীন লিঙ্গায়ত নেতা হিসাবে বিবেচিত হন।
হেগড়ের শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতি রাজীব গান্ধী ১৯৮৯ সালে একজন লিঙ্গায়ত নেতা বীরেন্দ্র পাতিলকে কর্নাটক কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রী পদ-প্রার্থী করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস ২২৪ সদস্যের বিধানসভায় ১৮১টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছিল।
কিন্তু কংগ্রেস পাটিলের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য দুই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির নেতা এস বাঙ্গারপ্পা এবং এম বীরাপ্পা মইলিকে বেছে নিয়েছিল। তারপর ভোক্কালিগারা তাদের দিক থেকে সরতে শুরু করেন। আবার লিঙ্গায়েতরা সরে যেতে শুরু করেন। তখন থেকেই কংগ্রেসের আধিপত্যে ভাগ বসে।












Click it and Unblock the Notifications