Karnataka Election Results 2023: কংগ্রেস ভোক্কালিগা ও লিঙ্গায়েতদের সমর্থন হারিয়েছিল, নেপথ্যে কী কারণ
কর্নাটকের জন্মলগ্ন থেকে কংগ্রেসের পক্ষেই ছিলেন ভোক্কালিগারা। এমনকী লিঙ্গায়েতদের আধিপত্য বিস্তারের পর থেকে তাঁরাও ছিলেন কংগ্রেসের দিকে। কিন্তু শেষ তিন দশক কেন তাঁরা সরে গেলেন কংগ্রেসের দিক থেকে? নেপথ্যে কী ঘটেছিল? ২০২৩-এর নির্বাচনের প্রাক্কালে ফিরে দেখা সেই ইতিহাসে।
বিগত আড়াই-তিন দশক ধরে গৌড়াদের সঙ্গেই রয়েছেন ভোক্কলিগারা। লিঙ্গায়েতরাও কংগ্রেসের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বিজেপির দিকে ঢলে পড়েছিলেন। কংগ্রেসের দিক থেকে মুখ ফেরানোর পিছনে কী এমন কারণ ছিল যে, পাঁচ বছরের মধ্যে ভোক্কালিগা ও লিঙ্গায়েতরা সরে গিয়েছিল কংগ্রেসের দিক থেকে।

২০২৩-এর কর্নাটক নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই প্রশ্নইটিই ঘুরে ফিরে আসছে। এবার কি সেই ভোক্কালিগা ও লিঙ্গায়েতদের সমর্থন ফেরাতে পারবে কংগ্রেস? সেই প্রশ্নের জবাব পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও একটা দিন। শনিবার কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পরই স্পষ্ট হয়ে যাবে তা।
১৯৮৩ সালে কর্নাটকের প্রথম অ-কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ হেগডে। তিনি একজন ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও মুকুটহীন লিঙ্গায়ত নেতা হিসাবে বিবেচিত হন কর্নাটকে। হেগড়ের শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতি রাজীব গান্ধী এক চাল দেন।
১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধী একজন লিঙ্গায়ত নেতা বীরেন্দ্র পাতিলকে কর্নাটক কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রী পদ-প্রার্থী করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস ২২৪ সদস্যের বিধানসভায় ১৮১টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছিল। এরপরও এক অন্য চাল চেলেছিলেন রাজীব।

কংগ্রেস পাটিলের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য দুই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির নেতা এস বাঙ্গারপ্পা এবং এম বীরাপ্পা মইলিকে বেছে নিয়েছিল কর্নাটরে। তারপর ভোক্কালিগাদের পাশাপাশি লিঙ্গায়েতরা সরে যেতে শুরু করেন কংগ্রেসের দিক থেকে। তখন থেকেই কংগ্রেসের আধিপত্যে ভাগ বসে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভোক্কালিগারা কর্নাটকের সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনের প্রধান ধারক হয়ে ওঠে। ১৯৫৬ সালে ভোক্কালিগারা পুরানো মহীশূর রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করত। রাজ্যের পুনর্গঠনে তারা লিঙ্গায়েতদের আধিপত্য স্বীকার করতে বাধ্য করে। পরে লিঙ্গায়েতরা উত্তর কর্নাটকের একটি প্রভাবশালী জাতি হয়ে ওঠে।

ভোক্কালিগা ও লিঙ্গায়েতরা ছিল রাজ্যের দুটি সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি। তাদের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই। ১৯৫৬ সালে কর্নাটক রাজ্য হওয়ার জন্মলগ্ন থেকেই লড়াই ছিল লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগাদের। ভোক্কালিগা মুখ্যমন্ত্রী কেঙ্গাল হনুমান্থাইয়া ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন একজন লিঙ্গায়ত নেতা এস নিজালিঙ্গপ্পা। নিউ মহীশূর রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
ভোক্কালিগারা লিঙ্গায়তদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি হারানোর পর তা পুনরুদ্ধার করতে ৩৮ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে এইচডি দেবগৌড়া সংযুক্ত কর্নাটকের প্রথম ভোক্কালিগা মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে চার লিঙ্গায়েত মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তাঁরা হলেন, এস নিজলিঙ্গপ্পা, বিডি জাট্টি, এসআর কাঁথি এবং বীরেন্দ্র পাতিল। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে একজন ক্ষত্রিয় ডি দেবরাজ উরস এবং একজন ব্রাহ্মণ আর গুন্ডুরাও লিঙ্গায়ত সমর্থন ছাড়া রাজ্য শাসন করেছিলেন। তাঁরা সবাই ছিলেন কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications