Karnataka Election 2023: কার পাল্লা ভারী কর্নাটকে! বিধানসভা নির্বাচনে কে হবেন ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’
২০২৩-এ সারা বছর ধরেই একের পর এক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। জম্মু-কাশ্মীরকে নিয়ে মোট ১০ রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা এই বছর। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বছরটি একপ্রকার সেমিফাইনাল। ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতে তিন রাজ্যে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে।
প্রথম বড় রাজ্য হিসেবে কর্নাটকের নির্বাচন আসন্ন। আগামী ১০ মে নির্বাচন। এবার এই নির্বাচনে কে নেবেন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের ভূমিকা তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কর্নাটকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া জোরদার হয়েছে। তারপর বিজেপিতে রয়েছে নেতৃত্বের কোন্দল। এই অবস্থায় কংগ্রেস কি পারবে সুযোগ নিতে?

সম্প্রতি রাহুল গান্ধী কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত ১৪০ দিন ধরে ভারত পরিক্রমা করেছেন। তাঁর ভারত জোড়ো যাত্রা এবার কর্নাটক নির্বাচনে কংগ্রেসকে বিরাট মাইলেজ দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেসকে হঠাৎ করেই সঙ্ঘবদ্ধ লাগছে।
গতবার নির্বাচনে বিজেপি বৃহত্তম দল হয়েছিল। কিন্তু ম্যাজিক ফিগার না থাকায় কংগ্রেসের সমর্থনে সরকরা গড়েছিল জেডিএস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন দেবেগৌড়া-পুত্র কুমারস্বামী। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন তাঁর পদ ধরে রাখতে। তাঁকে সরিয়ে অচিরেই বিজেপি দখল করে নিয়েছিল কর্নাটকের রাজপাট।
তারপর কংগ্রেস ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে, জেডিএস ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে, বিধানসভায় বেড়েছে বিজেপির শক্তি। কিন্তু ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির পালে হাওয়া নেই। কংগ্রেস চলে গিয়েছে অনেকটাই অ্যাডভান্টেজ পজিশনে। তার জন্য রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রার ভূমিকা বিশেষভাবে রয়েছে।
রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রার পর কংগ্রেস নেতৃত্ব চাঙ্গা। শিব কুমারের নেতৃত্বে কংগ্রেস নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। সর্বোপরি এই রাজ্য থেকেই কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। ফলে কংগ্রেসকে সঙ্ঘবদ্ধ লাগছে এবার।

আর বিজেপি অনেকটাই দিশেহারা এবার। ২০২৪-এর পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে বিজেপি কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচন জিততে চাইছে যে কোনো মূল্যে। ১৫০ আসন দখলের টার্গেটও করেছেন বিজেপি। সে জন্য দলের সবথেকে ভরসাযোগ্য নেতা বিএস ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে নতুন মুখও আনা হয়েছে।
কিন্তু শেষ রক্ষা হবে কি? কারণ ইয়েদুরাপ্পাকে সরিয়ে নেওয়ার পর নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে বিজেপিতে। যদিও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই ও বিএস ইয়েদুরাপ্পার মধ্যে বিবাদ অস্বীকার করেছে নেতৃত্ব। তবুও কর্নাটকের রাজনীতিতে এবার বিজেপিকে সরকার বাঁচানোর লড়াই লড়তে হবে।
বিজেপির কাছে কর্নাটক নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা ধরে রাখার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষ করছে ২০২৪-এর নির্বাচনের জন্য। ২০১৯ সালে কর্নাটক থেকে ২৮ জনের মধ্যে ২৫ জন বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন। দক্ষিণে এই একটামাত্র ঘাঁটি রয়েছে বিজেপির। এখন বিজেপি যদি এই ঘাঁটিও হারায় দক্ষিণ ভারতে মুখ খুবড়ে পড়তে হবে গেরুয়া শিবিরকে।
একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিজেপির এই পরিস্থিতির সুযোগ কি নিতে পারবে কংগ্রেস? নিতে পারবে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের ভূমিকা? নাকি এবারও জেডিএস নেবে কিংমেকারের ভূমিকা? জেডিএসের প্রাধান্য আগের তুলনায় একটু কমলেও কর্নাটকের বেশ কিছু পকেট রয়েছে, যেখানে জেডিএসের ভোট রয়েছে।
ফলে জেডিএসকে কমজোরি ভাবা ভুল হবে। জেডিওস দক্ষিণ কর্নাটকের একটা অংশে বেশ শক্তিশালী। সেখানে বেশ কিছু আসন দখল করতে পারে জেডিএস। জেডিএসের ভোক্কালিগা ভোট আবার তাদের কিংমেকারের ভূমিকায় বসাতে পারে। তবে বিজেপি এবার লিঙ্গায়েত ভোট হারাতে পারে।
কংগ্রেস এবার লিঙ্গায়েত ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আবার ভোক্কালিগা ভোটেও কংগ্রেসের দখল আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই বিশেষজ্ঞমহল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখছে বিজেপির তুলনায়। কংগ্রেসের সভাপতির রাজ্যে কর্নাটক। বিজেপি ও আরএসএসের একাধিক শীর্ষ নেতার বাড়ি হলেও মল্লিকার্জুন খাড়গে এবার মাত দিতে পারেন তাদের।












Click it and Unblock the Notifications