লিঙ্গায়েতরাই ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ কর্নাটকে! ভোট-অঙ্কে কে এগিয়ে, আভাস জনমত সমীক্ষায়
কর্নাটকের দুটি প্রভাবশালী সম্প্রদায় হল ভোক্কালিগা ও লিঙ্গায়েত। মূলত এই দুই সম্প্রদায়ই ভোটের ভাগ্য নির্ধারণ করে। লিঙ্গায়েতরা সংখ্যাধিক্যে এগিয়ে। তারা বারবার কর্নাটক নির্বাচনে কিং-মেকার হয়ে উঠেছে। এবারও তারা 'ডিসাইডিং ফ্যাক্টর' কর্নাটকে!
অন্তত এনডিটিভির লোকনীতি-সিএসডিএসের জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেতে এমনই তথ্য। কেননা ভোক্কালিগাসরা প্রধানত কংগ্রেস এবং এইচডি কুমারস্বামীর জনতা দল সেকুলার বা জেডিএসের মধ্যে বিভক্ত। এখনও তা অটুট। কিন্তু লিঙ্গায়েত ভোচের যদি কতিপয় অংশও ঘুরে যায় বিপরীত দিকে, তাহলে বদলে যেতে পারে সমীকরণ।

লিঙ্গায়েতরা সেই আশির দশক থেকে বিজেপির সঙ্গে রয়েছে। এখনও তারা বিজেপির দিকেই ঢলে রয়েছে। এবার বিএস ইয়েদুরাপ্পা সরে যাওয়ার পর লিঙ্গায়েত ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু যতটা ফাটল ধরার ইঙ্গিত মিলেছিল, ততটা ফাটল ধরেনি। অনেকটাই মেরামত করতে পেরেছে বিজেপি।
এনডিটিভির সমীক্ষা অনুযায়ী লিঙ্গায়েতদের ৬৭ শতাংশের ভোট বিজেপির দিকে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। বাকি ৩৩ শতাংশ ভোট ভাগ করে নিয়েছেন কংগ্রেস-সহ অন্যান্যরা। বিজেপি এই ভোট ধরে রাখতে পারলে, তাদের হারানো কঠিন হবে।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ায় যদি তলে তলে লিঙ্গায়েক ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামে, তাহলেই বিপদ বিজেপির। লিঙ্গায়েতরা রাজ্যের একক বৃহত্তম সম্প্রদায়। তারা জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ নিয়ে গঠিত। এখন পর্যন্ত রাজ্যকে ন-জন মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছে।

এই লিঙ্গায়েতরা কর্নাটকে ২২৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৯০ থেকে ১০০টির মতো কেন্দ্রে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারেন। এরা কিন্তু প্রাথমিকভাবে কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী লিঙ্গায়েত মুখ্যমন্ত্রী বীরেন্দ্র পাতিলকে হঠাৎ বরখাস্ত করার পরে ৮০-এর দশকে তারা কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
তারপর থেকে এই সম্প্রদায়েরই বিএস ইয়েদুরপ্পার নেতৃত্বে দক্ষিণী রাজ্যে প্রবেশ করে বিজেপি। কর্নাটকের শসান ক্ষমতা আবর্ত হতে থাকে বিজেপিকে কেন্দ্র করে। কংগ্রেস সেখানে পিছু হটে। কিন্তু এবার কংগ্রেস কামব্যাকের স্বপ্নে মশগুল। তারা কোনোরকম চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না কর্নাটক দখল করতে।

এখানে উল্লেখ্য, লিঙ্গায়েতদের থেকে সামান্য কম ভোক্কালিগা রয়েছে কর্নাটকে। মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ ভোক্কালিগা। কর্নাটককে তাঁরা চারজন মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের শক্ত ঘাঁটি ওল্ড মাইসুরু অঞ্চলে। রাজ্যের ২২৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬১টিতে তাদের প্রভাব রয়েছে।
ভোক্কালিগাদের ৩৪ শতাংশের সমর্থন কংগ্রেসের দিকে। ৩৬ শতাংশের সমর্থন জেডিএসের পক্ষে বলে জানিয়েছে সমীক্ষা। ভোক্কালিগাসদের একটি প্রান্তিক অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। আর মুসলিম ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫৯ শতাংশ কংগ্রেসের সঙ্গে। এই দুটি ক্ষেত্রে বিজেপি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। তাদের লিঙ্গায়েত ভোটেই নির্ভর করতে হবে। যদিও ভোক্কালিগা ভোটে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে তারাও।












Click it and Unblock the Notifications