বিজেপির মিশন ২৪-এ গুরুত্বপূর্ণ কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে জয়, নেপথ্যে কোন সমীকরণ
বছর ঘুরলেই ২০২৪-এর মহারণ। তার আগে ২০২৩-এ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের সেমিফাইনাল যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে তিন রাজ্যে নির্বাচনের পর প্রথম বড় রাজ্য হিসেবে কর্নাটকের নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। ২০২৪-এর পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে বিজেপি কর্নাটক বিধানসভায় জিততে চাইছে যে কোনো মূল্যে।

কর্নাটক নির্বাচন জেতাই পাখির চোখ
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, বিজেপির মিশন ২৪-এ গুরুত্বপূর্ণ কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে জয়। সে জন্য তারা তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করছে। কিন্তু কর্নাটকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া সাংঘাতিকভাবে প্রকট। গতবার সংখ্যলঘিষ্ঠ হয়েও অন্য দলকে ভাঙিয়ে সরকার গড়েছিল। এবার এই নির্বাচন জেতাই পাখির চোখ তাদের।

১৫০ আসন দখলের টার্গেট বিজেপির
গত তিন মাসে বিজেপি নীরবে কর্নাটকে পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। সবথেকে ভরসাযোগ্য নেতা বিএস ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে প্রচারের নেতৃত্বে নিয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বদল করে আবারও মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে বিজেপি। বিজেপি ২২৪ সদস্যের বিধানসভার ১৫০ আসন দখলের টার্গেট রেখেছে।

কর্নাটকে কাকে ম্যান্ডেট দেয়!
কর্নাটকের বিদায়ী বিধানসভায় বিজেপির ১১৯ জন বিধায়ক রয়েছে, কংগ্রেসের ৭৫ ও জেডিএসের ২৮টি আসন দখলে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ১০ মে ভোটের দিন ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে কর্নাটকে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। কর্নাটকে কাকে ম্যান্ডেট দেয় মানুষ সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

নেতৃত্বের সংকটও তৈরি হয়েছে বিজেপিতে
কর্নাটকের বিজেপি সরকার ব্যাপক প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সামনে পড়েছে এবার। নেতৃত্বের সংকটও তৈরি হয়েছে বিজেপিতে। যদিও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই ও বিএসওয়াইয়ের মধ্যে বিবাদ অস্বীকার করেছে নেতৃত্ব। তবুও কর্নাটকের রাজনীততে এখন বিজেপির নেতৃত্বের সংকট ও প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সঙ্গে লড়াই করতে হবে।

দক্ষিণ ভারতে মুখ খুবড়ে পড়তে হবে
কিন্তু বিজেপির কাছে কর্নাটক নির্বাচনে জেতা ক্ষমতা ধরে রাখার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ ২০২৪-এর নির্বাচনের জন্য। ২০১৯ সালে কর্নাটক থেকে ২৮ জনের মধ্যে ২৫ জন বিজেপির টিকিটে জিতেছিল। দক্ষিণে এই একটামাত্র ঘাঁটি রয়েছে বিজেপির। এখন বিজেপি যদি এই ঘাঁটিও হারায় তবে ২০২৪-এর নির্বাচনে দক্ষিণ ভারতে মুখ খুবড়ে পড়তে হবে গেরুয়া শিবিরকে।কিন্তু বিজেপির কাছে কর্নাটক নির্বাচনে জেতা ক্ষমতা ধরে রাখার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ ২০২৪-এর নির্বাচনের জন্য। ২০১৯ সালে কর্নাটক থেকে ২৮ জনের মধ্যে ২৫ জন বিজেপির টিকিটে জিতেছিল। দক্ষিণে এই একটামাত্র ঘাঁটি রয়েছে বিজেপির। এখন বিজেপি যদি এই ঘাঁটিও হারায় তবে ২০২৪-এর নির্বাচনে দক্ষিণ ভারতে মুখ খুবড়ে পড়তে হবে গেরুয়া শিবিরকে।

কর্নাটকে কংগ্রেস অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ
বিজেপির ২০২৪ মিশনে কেরালা, তমিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় কঠিন পরিস্থিত। সে অর্থে বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারেনি এইসব রাজ্যে। যেটুকু রয়েছে কর্নাটকে। কর্নাটকের আধিপত্য বিজেপি হারাতে চাইছে না। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মেই এবার কর্নাটকে কংগ্রেস অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে।

বিজেপি এবার লিঙ্গায়েত ভোট হারাতে পারে
কিন্তু কর্নাটকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব সংকটে বিজেপি এবার লিঙ্গায়েত ভোট হারাতে পারে। উত্তর কর্নাটকে ১৭ শতাংশ ভোট লিঙ্গায়েতদের। এই ভোটের অধিকাংশ বিজেপির ঝুলিতে যেত। এবার সেই ভোটও তারা হারাতে পারে। তাই লিঙ্গায়েত গোষ্ঠীর নেতা ইয়েদুরাপ্পা নির্বাচন কমিটিতে রেখে সেই ক্ষত বন্ধ করতে চাইছে।

বিজেপি ও আরএসএসের একাধিক শীর্ষ নেতার বাড়ি
মোদী-রাজ্যে জিতলেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার রাজ্যে তাদের হারতে হয়েছে। কর্নাটকেও বিজেপি ও আরএসএসের একাধিক শীর্ষ নেতার বাড়ি। শীর্ষনেতাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক সংগঠন, বিএল সন্তোষ, আরএসএস-এর সরকার্যবাহ সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে এবং তার ডেপুটি সিআর মুকান্দার।

এই রাজ্যে যদি বিজেপি হার মানে...
সন্তোষ বছরের পর বছর ধরে বিএসওয়াই-বিরোধী শিবিরে ছিলেন। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই এই রাজ্যে যদি বিজেপি হার মানে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে, তবে খারাপ প্রভাব পড়বে।












Click it and Unblock the Notifications