কর্নাটকে ৪০% কমিশন হলে কেরলে ৮০%! সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বিজয়ন সরকারকে নিশানা কংগ্রেসের
কংগ্রেস বিজেপির থেকে দ্বিগুণের বেশি আসন নিয়ে জিতেছে কর্নাটকে। কংগ্রেসের মূল অভিযোগ ছিল দুর্নীতির। বিজেপি সরকারকে তারা ৪০ শতাংশ কমিশনের সরকার বলে নিশানবা করেছিল। এবার কেরলের সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বিজয়ন সরকারকে ৮০ শতাংশ কমিশনের সরকার বলে আক্রমণ করল কংগ্রেস।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা কেরল বিধানসভায় প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রমেশ চেন্নিথালা বলেছেন, দ্বিতীয়বার কেরলের বাম সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি দলেরও অহংকার বেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, কেরলের এলডিএফ সরকার দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে।

যান চলাচলের নজরদারিতে কেরল সরকার কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নির্ভর ক্যামেরা বসিয়েছে। সেই ক্যামেরা কেনায় বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগ করেছে বিরোধী কংগ্রেস। সেই অভিযোগে করা সাংবাবিক সম্মেলনে চেন্নিথানা বলেন, কর্নাটকে যদি ৪০ শতাংশ কমিশন হয়, তাহলে কেরলে তা ৮০ শতাংশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, কর্নাটকে ভোট গণনায় সময়, প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঠিক এমনই মন্তব্য করেছিলেন, কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীসান। তিনি আরও বলেছিলেন, কর্নাটকে কংগ্রেস প্রচারে ৪০ শতাংশ কমিশনের বিষয়টিকে হাইলাইট করেছিল, কেননা ক্ষমতাসীন সরকার তাই নিচ্ছে বলে অভিযোগ।
সেই সময় বিরোধী দলনেতা সতীসান বলেছিলেন, কেরলে এটি ৪৬ শতাংশ বা ৬৫ শতাংশ। রাজ্যে তারা এই বিষয়টিকেই হাইলাইট করবেন বলে জানান। সেই সময় তিনি এআই ক্যামেরা এবং অন্য প্রজেক্টের কছা উল্লেখ করেছিলেন।
কেরলের মোটর ভেহিকেলস বিভাগ নিরাপদ কেরালা প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাজ্য জুড়ে ট্রাফিকের নিয়ম লঙ্ঘন রুখতে এখনও পর্যন্ত ৭২৬ টি এআই ক্যামেরা বসিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হল সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হ্রাস করা। কংগ্রেসের তরফে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে।

এদিন সাংবাদিক সম্মেটলন করে কংগ্রেস নেতা চেন্নিথানা অভিযোগ করেন, নিরাপদ কেরালা প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের আত্মীয়দেক পকেট ভর্তির ব্যবস্থা করেছে বাম সরকার। কিন্তু তারা জনগণের টাকা লুট হতে দেবেন না।
কংগ্রেসের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের এক আত্মীয়ের এক বেসরকারি সংস্থা এই এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ করেছে। রমেশ চেন্নিথানা দাবি করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পে যে জরিমানা আরোপ করার কথা ছিল, তা জনরোষের ভয়ে বাস্তবায়িত হয়নি।
কেরলের বাম সরকার এই দফায় দ্বিতীয় বর্ষ পূরণ করবে ২০ মে। সেদিন কংগ্রেস রাজ্য সচিবালয় ঘেরাও করবে বলে জানিয়েছেন। সেখানে এআই ক্যামেরা বসানোরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ করে তার প্রতিকারের দাবি করা হবে। বিরোধী কংগ্রেস এইভাবেই বাম সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালন করবে।












Click it and Unblock the Notifications