১৬ লক্ষ টাকা মাসিক ভাড়ায় বাংলো নিলেন কপিল সিবাল!

অর্থাৎ রাজকীয়ভাবে জীবন কাটানো। নিজে শুধু এই ফর্মুলায় বিশ্বাসই করেন না, তা বাস্তবায়িত করে দেখানোর সাহস দেখান। আর তাই নয়াদিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স এলাকায় ১৬ লাখ টাকা মাসিক ভাড়ায় একটি বাংলো নিলেন কপিল সিবাল!
ইউপিএ সরকারের সদ্যপ্রাক্তন মন্ত্রী কপিল সিবালকে কে না চেনে! রাজনীতি ছাড়াও আইনি জগতে তাঁর দারুণ নামডাক। দেশের সেরা আইনজীবীদের যদি তালিকা তৈরি করা হয়, তাতে প্রথম দিকেই তাঁর নাম রাখতে হবে। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী, পেপসি ইত্যাদি বড় বড় কোম্পানিগুলির আইনি বিষয় তিনি দেখভাল করেন। মোটা টাকা 'ফি' নেন। সুপ্রিম কোর্টে এক-একটি শুনানি বাবদ তিনি পারিশ্রমিক নেন কয়েক লক্ষ টাকা। কিন্তু রোজগার তো অনেকেই করে। এমন রাজকীয়ভাবে বাঁচে ক'জন? আর এখানেই অন্য রকম জীবনদর্শন কপিল সিবালের।
যে বাংলোটি তিনি এত বিপুল টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়েছেন, তার মালিক সিদ্ধার্থ সারিন। ব্যবসায়ী সিদ্ধার্থ সারিন মাসিক ১৮ লক্ষ টাকা ভাড়া চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৬ লক্ষ টাকায় রফা হয়। চুক্তিও শেষ। পয়লা অগস্টের আগেই মালপত্তর নিয়ে সপরিবারে এখানে এসে উঠবেন কপিল সিবাল। তিনি নিজে সংবাদমাধ্যমের কাছে এই চুক্তির কথা স্বীকার করেছেন।
যতদিন তিনি মন্ত্রী ছিলেন, থাকতেন তিনমূর্তি মার্গের সরকারি বাংলোয়। এ বার তো সেটা ছেড়ে দিতে হবে। পরিজনরা পরামর্শ দিয়েছিলেন, অল্প ভাড়ায় কোনও দু'কামরা ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠতে। শুনেই নাক সিঁটকেছেন তিনি। কারণ মন্ত্রী থাকার সুবাদে দীর্ঘ সময় বিরাট বাংলোয় কাটিয়েছেন। সবুজ ঘাসে মোড়া লন, ফুল গাছে ফুল, পাখপাখালির কূজন ইত্যাদি দেখেশুনে অভ্যস্ত। তাই 'পায়রার খোপ' ফ্ল্যাটে থাকা তাঁর কাছে না-পসন্দ। ফলে লুটিয়েন্স এলাকায় এই অভিজাত বাংলো ১৬ লাখ টাকা মাসিক ভাড়ায় নিয়েই ফেললেন।
কেন এত ভাড়া বাংলোটির? দু'টি কারণ। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রক, সংসদ ভবন ইত্যাদি এখান থেকে খুব কাছে। কেন্দ্রের মন্ত্রীদের বাংলোগুলি রয়েছে এই চত্বরে। ফলে কপিল সিবালের নেওয়া বাংলো বা আশপাশের সব বাংলোগুলির ভাড়া এতটা চড়া। দ্বিতীয়ত, এই লুটিয়েন্স এলাকায় নিজস্ব বাংলো রয়েছে বড়-বড় শিল্পপতিদের। যেমন আর্সেলর মিত্তলের মালিক লক্ষ্মীনিবাস মিত্তলের বাংলো রয়েছে এখানে। ভারতী এয়ারটেলের মালিক সুনীল মিত্তল থাকেন এই চত্বরেই। এসার গোষ্ঠীর দুই কর্ণধার রবি রুইয়া ও শশী রুইয়ার বাস এখানে। ফর্টিস হাসপাতাল গোষ্ঠীর দুই কর্ণধার মালবিন্দর সিং ও শিবিন্দর সিং, জিন্দল গোষ্ঠীর নবীন জিন্দল প্রমুখ এখানকার বাসিন্দা। এহেন পাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিলে তার দাম বাবদ যে মোটা টাকা দিতে হবে, সেটাই স্বাভাবিক।
টাকার অঙ্ক নিয়ে নয়, নতুন বাংলোয় অন্দরসজ্জা কী হবে, এখন সেই ব্যাপারে বিস্তর চিন্তিত কপিল সিবাল!












Click it and Unblock the Notifications