দেখা করতে চেয়েও উপেক্ষিত হয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া! নিশানায় রাহুল গান্ধীর ঔদ্ধত্য
একদা গান্ধী পরিবারে ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত হলেও সৌজন্যহীন ভাবে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। পরপর চারবারের এই সাংসদ মধ্যপ্রদেশ তথা জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের বড় মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে তাল কাটে ২০১৮ সালের মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই। কঠোর পরিশ্রম করে কংগ্রেসকে আশাতীত জয় এনে দিয়েও মেলেনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদটিও রয়ে যায় অধরা। এরপর রাজ্যসভায় যেতে চেয়ে হাইকমান্ডের দ্বারস্থ হলেও কোনও জবাব মেলেনি তাতে। পেয়েছেন শুধু উপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত এতেই শেষ সুতোটি কাটে। দল ছাড়েন তিনি।

রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন সিন্ধিয়া
জানা গিয়েছে বিগত কয়েকমাস ধরেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তবে তাঁর সেই সাক্ষাৎ প্রার্থনাকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ত্রিপুরা রাজবংশের সদস্য তথা প্রাক্তন ত্রিপুরা কংগ্রেসের প্রধান প্রদ্যোথ মাণিক্য দেববর্মা। তিনি জ্যোতিরাদিত্যর দূরের আত্মীয়ও বটে।

রাহুল গান্ধীর উপর প্রশ্ন চিহ্ন
জ্যোতিরাদিত্যর কংগ্রেস বিদায়ের ছবিটা স্পষ্ট হতেই এদিন এক ফেসবুক পোস্ট করে প্রদ্যোৎ লেখেন, 'আমি জানি যে বেশ কয়েক মাস ধরেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলেন জ্যোতিরাদিত্য। আমার প্রশ্ন, যদি রাহুল গান্ধী আমাদের কথা শুনতেই না চান, তবে আমাদের দলে কেন এনেছিলেন?'

বহুদিন অপেক্ষার পর কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত সিন্ধিয়ার
প্রদ্যোৎ আরও লেখেন, 'আমার জ্যোতিরাদিত্যের সঙ্গে কথা হয়েছিল গতকাল গভীর রাতে। ও আমাকে জানায় যে ও বহুদিন ধরে অপেক্ষা কেরছিল। তবে ফল হয়নি। 'আমাদের নেতা' তাঁকে সাক্ষাতের জন্য কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্টই দেননি। আমাদের নেতারাই যখন আমাদের কথা শোনেন না, তাহলে এরকম ভাবে দলে থেকে লাভ কী?'

কংগ্রেস প্রবীণ বনাম তরুণ দ্বন্দ্ব
কয়েকদিন আগে নিজে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন প্রদ্যোৎ। এই বিষয়ে তিনি লেখেন, 'রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের প্রধান পদ থেকে সরে যাওয়াতে আমরা অনাথ বোধ করেছিলাম। তখন আমি নিজেই ত্রিপুরা কংগ্রেসের প্রধানের পদ ছেড়ে দেই। তবে সময়ের সঙ্গে আমাদের মত তরুণ নেতাদের কথা অগ্রাহ্য করা হয় দলে। আমাদের এক পাশে ঠেলে দেওা হয়। প্রবীণ নেতারা আমাদের মতবাদের সঙ্গে বিরোধ করতে থাকেন।'

মঙ্গলবার 'হাত' ছেড়ে পদ্ম শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েছেন সিন্ধিয়া
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিলই। সেই গুঞ্জন সত্যি করে মঙ্গলবার 'হাত' ছেড়ে পদ্ম শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কংগ্রেসের পরবর্তী প্রজন্মের উজ্জ্বল নেতা ও রাহুল গান্ধীর একদা ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার দলত্যাগে কংগ্রেসের অন্দরেই শোনা যাচ্ছে হা-হুতাশ। কংগ্রেসের একাংশের মতে গান্ধী পরিবার চাইলে আটকাতে পারতেন রাহুল গান্ধীকে।

কংগ্রেসে থাকতে হলে গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হতে হবে!
রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, জ্যোতিরাদিত্যের দলত্যাগ কংগ্রেসের অন্দরে প্রবীণ বনাম তরুণ দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে দিল। পাশাপাশি অনেকেই একধাপ এগিয়ে বলছেন, বর্তমানে কংগ্রেসে থাকতে হলে গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হতে হবে, নয়ত কংগ্রেসে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে। কংগ্রেসের অন্দরে হতাশায় উঠে এসেছে হাইকমান্ডের দায়সারা মনভাবের কথাটিও। আক্ষেপ, দ্বন্দ্বের ফায়দা তুলেই জ্যোতিরাদিত্যকে গেরুয়া শিবিরে টানতে সমর্থ হলেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা।

২২ বিধায়ক নিয়ে বিজেপির পথে সিন্ধিয়া
বিজেপির পথে পা যে বাড়িয়ে দিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় হোলির দিন সকালেই। মঙ্গলবার সকাল সকাল প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্যা। সিন্ধিয়া যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোদীর বাসভবনে ঢোকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। জল্পনা ছিল আগেই। তবে এই ছবি সামনে আসতেই আর সব সন্দেহ চলে যায়। এর পরপরই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৯ জন বিধায়ক। পরে ইস্তফা দেন আরও বেশ কয়েকজন। মোট ২২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে দেন। এদের সকলেরই পরবর্তী গন্তব্য বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications