ধোপে টিকল না বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ, এলাহাবাদ হাইকোর্টেই যাচ্ছেন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার সরকারি বাসভবনে নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ার পর তাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে ফেরত পাঠানোর সুপারিশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম। সোমবার কলেজিয়ামের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব জারি করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, "২০ এবং ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিচারপতি যশবন্ত ভার্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে"। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এলাহাবাদ হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন যে প্রতিবাদ দেখিয়েছিল, তা যে ধোপে টিকল না এককথায় স্পষ্ট।

গত ১৪ মার্চ রাত ১১:৩৫ মিনিটে দিল্লির তুঘলক রোডে বিচারপতি ভার্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। প্রাথমিক উদ্ধারকাজ চালানোর সময় দমকল বিভাগ (DFS) এবং পুলিশের কর্মীরা স্টোররুমে বিশাল পরিমাণ নগদ অর্থের স্তূপ খুঁজে পান। এর মধ্যে কিছু টাকা আগুনে পুড়ে যায় বলেও জানা গেছে। ঘটনার সময় বিচারপতি ভার্মা ও তার স্ত্রী ভোপালে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা এই নগদ অর্থের সাথে তার কোনো সংযোগ নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি এটিকে "ষড়যন্ত্র" বলে অভিহিত করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ বলেছেন। ২০ মার্চ, সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম বিচারপতি ভার্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কলেজিয়ামের কিছু সদস্য মনে করেন, কেবল বদলি যথেষ্ট নয় - এই ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
একজন বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে বিচারপতি ভার্মাকে বরখাস্ত করার দাবি তোলেন, অন্যদিকে আরেকজন প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের সুপারিশ করেন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (HCBA) এই বদলির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
তাদের বক্তব্য, "এলাহাবাদ হাইকোর্ট কি আবর্জনার পাত্র?" এমনকি একটি চিঠিতে এইচসিবিএ জানিয়েছে, দুর্নীতির কোনো স্থান নেই এবং এই সিদ্ধান্তকে "অস্বাভাবিক" বলে দাবি করেছে তারা। তারা যে সুপ্রিমের এই আদেশ মানছেন না, তা আগেই জানিয়েছেন বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। ফলে শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্ত যে পরিস্থিতি আরও জটিল করল তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
কে এই বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা?
২০১৬ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন যশবন্ত ভার্মা। ২০২১ সালের অক্টোবরে দিল্লি হাইকোর্টে বদলি হন তিনি। উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্থায়ী আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এই ঘটনার পর বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications