সুপ্রিম কোর্টে ভোটের ১০০% যাচাইকরণ নিয়ে শুনানি! বিচারপতি বাংলার প্রসঙ্গ টেনে জার্মানির উদাহরণ খারিজ করলেন
ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল-সহ ইভিএম-এ ভোটারদের সব ভোটের ১০০ শতাংশ যাচাইকরণের দাবি নিয়ে একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ভিভিপ্যাট হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ভোটারদের ভোট সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা যায়।
ভিভিপ্যাট মেশিন থেকে একটি কাগজের স্লিপ বের হয়, যা নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। কোনও বিবাদ কিংবা অসঙ্গতির ক্ষেত্রে তা অ্যাক্সেস করা যেতে পারে। ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার প্রতিটি ভোটের ক্রস ভেরিফিকেশন নিয়ে আবেদন দাখিল করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস এবং সমাজ কর্মী অরুণকুমার আগরওয়াল ইভিএমএ ভোটের ১০০ শতাংশ ভিভিপ্যাটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের সওয়াল
সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের একজনের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেছেন, ইভিএমের ভিতরে ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ প্রোগ্রামযোগ্য এবং মেশিনে প্রোগ্রাম ইনস্টল করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, কারচুপি করা হয়েছে, তা তারা বলছেন না। তবে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটে দুই ধরনের চিপ থাকায় সেখানে হেরফের হতে পারে।
শুনানিতে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ ইভিএম পরীক্ষা করার পরে কাগজের ব্যালটে ফিরে গিয়েছে। তিনি এক জার্মানির আদালতের কথা তুলে ধরেন। সেথানে বলা হয়েছে, ইভিএমের বিশ্বাস করা যায় না। তিনি আরও বলেছেন, ভারতের শীর্ষ আদালতও বলেছে, একটি পেপার ট্রেইল থাকতে হবে, কারণ ইভিএমকে বিশ্বাস করা যায় না। তাই আমাদের ভিভিপ্যাট রয়েছে।
অপর আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেন, ইভিএমে রেকর্ড করা ভোটগুলি ভিভিপ্যাটের সঙ্গে একশো শতাংশ মিল থাকা উচিত। এব্যাপারে বিচারপতি খান্না প্রশ্ন করেন, তাহলে কি ৬০ কোটি ভিভিপ্যাট স্লিপ গণনা করা উচিত?
বিচারপতিদের অবস্থান
পাল্টা বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, তাঁর নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা জার্মানির থেকে বেশি। তাই ইউরোপের উদাহরণ এখানে কাজ করে না। তিনি বলেছেন, আমাদের কাউকে বিশ্বাস করতে হবে। এইভাবে এই ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা যায় না। তিনি এডিআরের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে প্রশ্ন করেন, কোথা থেকে এই তথ্য পাওয়া গেল যে, বেশিরভাগ মানুষ ইভিএম-এ বিশ্বাস করেন না?
অন্যদিকে অপর বিচারপতি সঞ্জীব খান্না বলেন, দেশের ভোটারদের নাম নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত। আর ব্যালট পেপারের সময় কী হয়েছিল, তা সবাই জানেন। এদিন দুইঘন্টার বেশি শুনানির পরে বিচারপতি দ্বয় শুনানি ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করে দেন।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন প্রতি বিধানসভায় যেখানে প্রায় ২০০ মেশিন রয়েছে, সেখানে পাঁচটি করে ভিভিপ্যাট মেশিন গণনা করে। আর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব ভিভিপ্যাটের স্লিপ গণনা করতে ১২ দিন সময় লাগবে।
বিচারপতি খান্না প্রশ্ন করেছেন, যদি ইভিএমে কারচুপি করা হয়, তাহলে অপরাধীর জন্য শাস্তির কী বিধান রয়েছে? জবাবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, ইভিএমে কারচুপির জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। সেই সময় বিচারপতি খান্না বলেন, যদি কোনও কারসাজি করা হয়, তাহলে সে ব্যাপারে শাস্তির সুনির্দিষ্ট কোনও বিধান নেই। আবেদনকারীদের আইনজীবীর যুক্তি শুনে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে পর্যায়ক্রমে ইভিএম ব্যবহারের পুরো বিবরণ দিতে বলেছে।












Click it and Unblock the Notifications