বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার জীবনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জেনে নিন একনজরে
প্রায় সাত মাস আগে বিজেপির কার্যকরী সভাপতি পদে বসেন। শেষ পর্যন্ত সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে অমিত শাহের উত্তরসূরী হিসাবে দলের সর্ব ভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হলেন। প্রথম নরেন্দ্র মোদী সরকারের সময় মন্ত্রিসভার অংশ থাকা জেপি নাড্ডাকে নিজে হাতে বাছাই করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। এরপরেই দ্বিতীয়বার বিজেপি ক্ষমতা আসার পর দলের রাশ নাড্ডার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অমিত শাহ। তবে এত দিন খাতায় কলমে অমিত শাহই ছিলেন দলের প্রধান। তবে আজ থেকে দলের প্রধান পদে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের কার্যকাল শুরু করলেন জেপি নাড্ডা। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২২ পর্যন্ত দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে থাকবেন জগৎ প্রকাশ নাড্ডা।

প্রথম মোদী সরকারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন
৫৯ বছর বয়সী নাড্ডা প্রথম মোদী সরকারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন। বিজেপির নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি দল ও সরকারের একাধিক পদে থাকতে পারেন না। তাই নিয়ম মেনে অমিত শাহ তাঁর অনুপস্থিতিতে জেপি নাড্ডাকে বিজেপির মসনদে বসান। কারণ অমিত শাহ নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে সরকারে যোগ দেন। আর দলের দায়িত্বে থাকায় নাড্ডাকেও মন্ত্রিসভার অংশ করা হয়নি।

বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব সামলেছেন জেপি নাড্ডা
দলের প্রধান হওয়ার আগে বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব সামলেছেন জেপি নাড্ডা। ছাত্র অবস্থায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যও ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আরোপ করা জরুরি অবস্থার বিরোধিতায় বিক্ষোভ করার জন্যে ৪৫ জেলও খাটতে হয়েছিল তাঁকে। ১৯৯৩ সালে প্রথমবার সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হিমাচলপ্রদেশের বিধানসভায় বিধআয়ক হিসাবে সংসদীয় রাজনীতি সূচনা করেন জেপি নাড্ডা।

পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলাবিভাগে স্নাতক ডিগ্রি
নাড্ডার জন্ম ১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর। তাঁর বাবা ছিলেন নারায়ণ লাল নাড্ডা এবং মা ছিলেন শ্রীমতী কৃষ্ণ নড্ডা। তিনি বিহারের রাজধানী পাটনার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পরে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলাবিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি পাটনা থেকে হিমাচল প্রদেশে গিয়ে সেখানে শিমলায় রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

বাঙালি পরিবারের জামাই
জগৎ প্রকাশের বিয়ে হয়েছে মল্লিকা নড্ডার সঙ্গে এবং এই দম্পতির দুটি পুত্র রয়েছে। উল্লেখ্য বিষয়, নাড্ডার শাশুড়ি হলেন মধ্যপ্রদেশের প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সংসদ সদস্য জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। জবলপুর থেকে সাংসদ ছিলেন জয়শ্রী। সেই অর্থে বাঙালি পরিবারের জামাই জেপি নাড্ডা।

১৯৯৩ সালে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ
১৯৯৩ সালে প্রথমবার বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর হিমাচলপ্রদেশর বিধানসভায় ১৯৯৮ ও ২০০৭ সালেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই সময় হিমাচলে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, সংসদীয় বিষয়ক, এবং বন, পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করা হয়েছিল।

২০১০ সালে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হন
জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে জেপি নাড্ডার প্রথম বড় লাফ ছিল ২০১০ সালে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়া। নীতিন গড়কড়ির সভপতি থাকাকালীন তাঁকে এই পদে আনা হয়। সেই থেকে নাড্ডা জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং রাজ্য রাজনীতিতে ফিরে যাননি।

২০১২ সালে নাড্ডা রাজ্যসভার সদস্য হন
২০১২ সালের এপ্রিল মাসে নাড্ডা রাজ্যসভার সদস্য হন এবং ২০১২ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় উত্তর প্রদেশের দায়িত্বে থেকে দলের কাজকর্ম পরিচালনা করেছিলেন। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর অধীনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জেপি নাড্ডাকে সংবর্ধনা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী
আজ সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মনোনয়নপত্র জমা দেন নাড্ডা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি । বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দলীয় সূত্রে খবর, নাড্ডার নাম প্রস্তাব করেছিলেন দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি ও সংসদীয় দলের সদস্যরা তথা অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ও নীতিন গড়কড়ি। সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে জেপি নাড্ডাকে সংবর্ধনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।












Click it and Unblock the Notifications